ফিলিস্তিন ও পবিত্র ভূমি মসজিদ আল-আকসাতে চলমান ঘটনাগুলো দেখে পুরো বিশ্বের মুসলিমরা ভীষণ ব্যথিত হয়।
কিন্তু এই ব্যাপক আলোচিত বিষয়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায় নিরব ভুমিকা পালন করে। আমি অবাক হয়ে ভাবি – কেন তারা নিরব এ বিষয়ে? তারা কি দেখেনি ইসরাইলের সৈন্যরা ইসলামের তৃতীয় পবিত্র ও মর্যাদাসম্পন্ন মসজিদে কিভাবে গুলি চালিয়ে যায়? তারা কি দেখেনি নিষ্পাপ শিশুরা কিভাবে মারা যায়?
একটি তদন্তে তাদের রহস্যময় নিরবতার পেছনে বহু বেদনাদায়ক বাস্তবতা প্রকাশ পায়।
১৫ এপ্রিল, ২০১৮ তে একটি কাদিয়ানী নিউজ ওয়েবসাইট যুক্তরাজ্যের লর্ড তারিক আহমদের (প্রতিমন্ত্রী) ইসরাইল সফরের খবর প্রকাশ করে। বাহ্যিকভাবে, একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির কূটনৈতিক সফর কোনো চিন্তার বিষয় বলে মনে হয় না। কিন্তু এ সফরে কাদিয়ানী লর্ড তারিক আহমদ বলেন:
“যে দল ইসরায়েলের ধ্বংসে বিশ্বাস করে তারা শান্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে হতে পারে না….আলোচনা টেবিলে যে কোনো দলকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার মেনে নিতে হবে।“
এবং:
“পরিষ্কারভাবে বললে,ইসরায়েলের অস্তিত্ব এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। যারা এই নীতি মানবে না, তারা কোনো আলোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে না।” (১)
মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় লর্ড তারিক আহমদ, আহমদীয়া অর্থাৎ ইসরায়েলের হাইফা শহরে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সদর দপ্তরও সফর করেন। হাইফাতে ১৯৭০ সালে নির্মিত মাহমুদ মসজিদও অবস্থিত।[pictured above]. কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় ‘খলিফা’ মির্জা বশির উদ-দীনের নামে এটি নামকরণ করা হয়েছিলো।
ইসরাইলই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যেখানে কাদিয়ানীরা তাদের ধর্ম প্রকাশ্যে পালন করে। যেমন, কাবাবিরের পাশে হাইফায় কারমেল পর্বতে কাদিয়ানী সম্প্রদায় বসবাস করে। সেখানে তাদের মধ্যপ্রাচ্যের সদর-দফতরও প্রতিষ্ঠিত।
মির্জা বশির উদ-দীন মাহমুদ এবং বেশ কিছু কাদিয়ানী ধর্মপ্রচারকদের সফরের মাধ্যমে বিশ্বের এই অংশে কাদিয়ানীদের ইতিহাস শুরু হয়। সম্প্রদায়টি ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫০ এর দশকে কাবাবিরে বসতি স্থাপন করে। গ্রামটি পরবর্তীতে হাইফাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইসরায়েলের সকল জেলাতেই কাদিয়ানীদের দেখা যায়, তবে সাধারণত তারা হাইফাতে কেন্দ্রীভূত।
কাদিয়ানীরা ইসরায়েলের আন্তঃধর্মীয় (inter-faith) কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সক্রিয় ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে।
উপরের তথ্যগুলো ফিলিস্তিনের সমস্যায় কাদিয়ানীদের বধির নীরবতাকে কিছুটা হলেও প্রকাশ করে। তারা কিভাবে সাহসের সঙ্গে দাবি করতে পারে — “সকলের জন্য ভালোবাসা, কারোর প্রতি ঘৃণা নয়” — যখন তারাই আবার গোপনে শেষ রাসূল সাইয়্যিদুনা মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মুসলিম উম্মাহ এবং পবিত্র মসজিদগুলো নিয়ে এতো বিদ্বেষ ছড়ায়?
তথ্যসূত্র
_মুহাম্মদ ইসলাম