কোকের বিজ্ঞাপনটা এই দেশের মুসলিমদের সাথে স্রেফ প্রতারণাই না, বরং একটা শয়তানি প্রোপাগান্ডা।

কয়েকটা পয়েন্ট বলি।


১. সামনে কুরবানির ঈদ। এই ঈদে সফট ডিংকসের চাহিদা থাকে খুব। তাই ব্যাবসায় যেন কোকের ব্র্যান্ড কালারের বাত্তি না জ্বলে, সেজন্য এই শয়তানি অ্যাড বানানো হলো।
.
২. কোক নিয়ে মানুষের তথাকথিত ‘ভুল’ (মানে, কোক হিজড়া ঈলের পণ্য) ভাঙিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চরিত্রটা দেয়া হলো দোকানদারকে। দেখে মনে হয় যেন অলিগলির দোকানদাররাই নিজেদের দোকানের পণ্য সম্পর্কে সবচে ভালো খোঁজ রাখে। আসলে বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টা।

বরং দোকানদারের মুখ দিয়ে এইসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করে পাড়া-মহল্লার দোকানিদেরকেও একটা অথরিটি দেয়ার সূক্ষ্ম চেষ্টা এটা। তা ছাড়া এসব বাকওয়াজে আসলে যে দোকানিদেরই লাভ, সেটা বুঝা যায় অ্যাডের ২য় দোকানদারের মাথা ঝোঁকানো দেখলেই!
.
৩. অ্যাডে একবারও হিজড়া ঈলের নাম উচ্চারণ করে নাই। বারবার ‘ওই জায়গা’ বলে রেফার করেছে। কারণ ওরা জানে ওই নাম মুখে আনলে পাবলিক সেন্টিমেন্ট নিয়ে সহজে খেলা যাবে না। তবে হ্যাঁ, নিজের টাকায় বানানো অ্যাডে নিজের আব্বার নাম উচ্চারণ না করতে পারাটা বেশ কষ্টের..!!
.
৪. মুসলিমদের আবেগ নিয়ে ওরা খেলতে চেয়েছে। হিজড়া ইলের নাম উচ্চারণ না করলেও ফি লিs ৩ এর নাম কিন্তু ঠিকই বলেছে। আবার জুড়ে দিয়েছে ফালতু একটা তথ্য। হিজড়া ইল পুরাটাই তো আসলে ফি লিs ৩। তাই ওখানে এই কালো পেশাবের ফ্যাক্টরি থাকলেই কী, আর না থাকলেই-বা কী? যদি থাকেও, সেটা তো অবৈধ!
.
৫. অ্যাডে দেখাচ্ছে, সবাই ‘শোনা কথা’য় বিশ্বাস করে ধরে নিয়েছে কোক হিজড়া ইলের। তাই দোকানদার সবার ‘ভুল’ ধরিয়ে দিচ্ছে! সে হড়হড় করে কতগুলো ফালতু কথা বমি করল। এরপরই একজন বলে উঠল, ‘অ্যাই বাচ্চু, কোক দে!’

আচ্ছা, এখানে কী শোনা কথাই বিশ্বাস করা হলো না?
এভাবেই ওরা ডাবল-স্টান্ডার্ডবাজি করে।
.
৬. খেতা নিয়াহুর যেসব মানস-সন্তান এই অ্যাডে অভিনয় করেছে এদেরকে সামাজিকভাবে বয়কটা করা জরুরি। চাবকে পিঠের চামড়া তুলে না দেয়া গেলেও অন্তত সামাজিকভাবে কঠিন চাপে ফেলা দরকার। যেন ভবিষ্যতে এসব দালালি অ্যাডে কেউ অভিনয় করার সাহস না পায়।

এখানেও ব্যাপার হইলো, নামজাদা কাউরে এরা মনে হয় রাজি করাতে পারে নাই। অলিগলি থেকে কতগুলা গার্বেজকে ধরে আনসে!
.
৭. দিনশেষে হিজড়া ইলি পণ্য খাওয়া মানে মজলুম ফি লিs ৩নি ভাইবোনদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা। কোনো সাচ্চা মুসলিম এইসব আবর্জনা কিনতে বা খেতে পারে না।

আসন্ন কুরবানির ঈদে কোক, পেপসি, স্প্রাইট, ফান্টা, মিরিন্ডা, সেভেন আপ, মাউন্টেন ডিউ সহ সব হিযড়া ইলি পণ্য বয়কট করুন। এজন্য অনলাইন, অফলাইন সবখানে আরও জোরেশোরে প্রচারণা চালান। যার দোকানেই এসব পণ্য দেখবেন, প্রথমে বোঝাবেন। এতে কাজ না হলে ওই দোকানও বয়কট করবেন। যার হাতেই এসব পণ্য দেখবেন, তাকেও বোঝাবেন। এভাবেই বয়কট চলতে থাকবে।

হিজড়া ইলি পণ্যের ব্যাবসায় কোকের ব্র্যান্ড কালারেই বাত্তিই জ্বলুক।

~ আবিদ ইকবাল