কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করা কেনো প্রয়োজন?

কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিশে^র সকল মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাদিয়ানীরা অমুসলিম বা কাফের। এমতাবস্থায় একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীন ধর্মপালনের স্বার্থে এবং সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা একান্ত করা প্রয়োজন। তা না হলে কাদিয়ানীরা যেমন তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না, তেমনই সংখ্যাগুরু মুসলমানদের ধর্ম ইসলামও সুরক্ষিত থাকবে না। নীচে কাদিয়ানীদেরকে সরকারীভাবে সংখ্যালঘু অমুসলিম ঘোষণা করার কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করা হলো।

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার প্রথম যুক্তি

নব্বই ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা যেমন স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করে, পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানরাও পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতে পারে। সংবিধানে ৪১ ধারার তিনটি অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আপন ধর্ম সংরক্ষণের পূর্ণ অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
সুতরাং প্রত্যেক নাগরিক নিজ ধর্মের পরিচয়ে পরিচিত হওয়া এবং স্বাধীনভাবে নিজ ধর্মের প্রকাশ করতে পারা একটি সাংবিধানিক অধিকার। তাইতো মুসলমান তার ইসলামের পরিচয়ে, হিন্দু তার হিন্দু ধর্মের পরিচয়ে এবং খ্রিস্টান তার খ্রিস্ট ধর্মের পরিচয়ে পরিচিত হয়। তাহলে কাদিয়ানীরা ‘অমুসলিম’ হয়েও কেন মুসলমান পরিচয়ে পরিচিত হবে? বরং প্রত্যেক কাদিয়ানির সাংবিধানিক অধিকার হল সে তার “কাদিয়ানী ধর্মের” পরিচয়ে পরিচিত হবে।

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দ্বিতীয় যুক্তি

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যখন কোন সরকার অধিষ্টিত হয়, তখন তার প্রধান দায়িত্ব হয়- সংবিধানের আলোকে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ করা। আর সে জন্যই প্রত্যেক নাগরিকের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় সরকারের কাছে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সরকার নাগরিকের ধর্মীয় সুরক্ষা দেবে কিভাবে? এমতাবস্থায় কাদিয়ানীরা যদি ‘অমুসলিম’ হয়েও নিজেদেরকে মুসলমানরূপে পরিচয় দেয়, তাহলে তারা কি নিজেদের ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবে? কিংবা সরকার কি তাদের অধিকারের সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে?

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার তৃতীয় যুক্তি

সংবিধানের আলোকে প্রত্যেক নাগরিকের যেমন আপন ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে, তেমনি আপন ধর্ম ও ধর্মীয় রীতিনীতি এবং ধর্মীয় স্থাপনা ও ধর্মীয় পরিভাষাসমূহ সংরক্ষণেরও পূর্ণ অধিকার রয়েছে। একজন অপরজনের ধর্ম ও ধর্মীয় রীতিনীতি বা পরিভাষা নিয়ে টানাটানি করলে নিশ্চই তাতে অপরের ধর্মীয় অধিকার হরণ করা হয়।
সুতরাং কোন হিন্দু যেমন খ্রিস্টানের গীর্জাকে নিজের উপসনালয় দাবী করে না, কোন খ্রিস্টান যেমন মুসলমানের মসজিদকে নিজের উপাসনালয় দাবী করে না, কোন মুসলমান যেমন কাদিয়ানী উপাসনালয়কে নিজেদের মসজিদ স্বীকার করে না- তাহলে “কাদিয়ানী” একটি “স্বতন্ত্র ধর্ম” হওয়া সত্ত্বেও কেন মুসলমানের মসজিদ, আযান, নামায, রোজা, কুরআন ইত্যাদি নিয়ে টানাটানি করবে? এতে কি মুসলমানের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুন্ন হয় না? সুতরাং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষিত করতে অবশ্যই “কাদিয়ানদের” প্রকৃত পরিচয় সরকারের খাতায় নিবন্ধন করতেই হবে।
কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার চতুর্থ যুক্তি: আত্মপরিচয় গোপন করা একদিকে যেমন নৈতিকতা বিরোধী তেমনি প্রতারণার দায়ে আইনের কাছে তা দ-নীয় অপরাধ। সুতরাং কোন কাদিয়ানী আপন ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে নিজেকে মুসলমানরূপে পরিচয় দেওয়া অবশ্যই প্রতারণার শামিল। দেশের প্রত্যেক নাগরিক যখন নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে না, কুণ্ঠিত হয় না; বরং নিজের সাংবিধানিক অধিকার মনে করে, তাহলে কাদিয়ানীরা নিজ ধর্মের পরিচয় প্রকাশ করতে তাদের লজ্জা কিসের? বরং স্বতন্ত্র “কাদিয়ানী ধর্মের” পরিচয়ে তাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে। স্বাধীনভাবে তারা আপন ধর্মকর্ম পালন করতে পারবে। তারা তো মেনে নিয়েছে যে, মুসলমানদের বাহাত্তুর ফেরকা সম্মিলিতভাবে তাদেরকে অমুসলিম-কাফের ঘোষণা করে রেখেছে।

তাহলে সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত দেশের সরকারের কাছে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) করতে সমস্যা কোথায়?