উপর্যুক্ত খতমে নবুওয়ত আকিদা ইসলামের সর্বসম্মত মৌলিক বিশ্বাস। ইসলামের শুরু থেকে অদ্যাবধি সকল মুসলমানের কাছে তা স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে উপর্যুক্ত তিনটি বিষয়েই কাদিয়ানীদের বিশ্বাস সম্পূর্ণ বিপরীত।

এক. কাদিয়ানীদের মতে নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদিক থেকে সর্বশেষ নবী নন। বরং মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীও একজন নবী। (নাউজুবিল্লাহ!) কাদিয়ানীদের বিশ্বাসমতে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী আনুগত্য ও অনুসরণের ভিত্তিতে উম্মতি নবীর মর্যাদা লাভ করেছে এবং সে নিজেই মুহাম্মদ হওয়ার ভিত্তিতে যিল্লি ও বুরুজি নবী। আর এই যিল্লি নবুওয়ত কোনো ছোট স্তরের নবুওয়ত নয়; বরং তাদের বিশ্বাসমতে সকল নবুওয়তের মুকুট হলো এই যিল্লি নবুওয়ত। সকল নবী রাসূলদের ইমাম সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত উচ্চ স্তরের। (নাউজুবিল্লাহ!)। (একটি ভুল সংশোধন ৩, ৪, ৮ ; রুহানি খাজায়েন : ১৬/২৭১, ২৭২। কালিমাতুল ফসল : ১৫৮)

দুই. কাদিয়ানীদের বিশ্বাসমতে মির্জা কাদিয়ানীর ওপরও অহী নাযিল হয়েছে এবং সে আল্লাহর পক্ষ থেকে অসংখ্য ইলহাম কাশ্ফ ও স্বপ্নপ্রাপ্ত হয়েছে। আর যেহেতু তার দাবীমতে সে একজন নবী, সেহেতু তার ইলহাম কাশ্ফ ও স্বপ্নগুলো ওহীর মতোই। কাদিয়ানীরা মির্যা কাদিয়ানীর তথাকথিত এ সকল ওহীর সংকলন ‘তাজকিরা’ গ্রন্থকে আসমানী কিতাবের মতোই বিশ্বাস করে। অতএব কাদিয়ানীদের মতে আল কোরআন সর্বশেষ আসমানী কিতাব নয়; বরং তথাকথিত ‘তাজকিরা’ও একটি আসমানী কিতাব। নাউজুবিল্লাহ! (রুহানি খাযায়েন : ২২/১৫৪)।

তিন. কাদিয়ানীদের বিশ্বাসমতে কেউ মুসলমান হলেই পরকালে নাজাত পাবে না; বরং নাজাত পেতে হলে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে বিশ্বাস করে কাদিয়ানী/আহমদী হতে হবে। মির্জা কাদিয়ানীর ভাষ্যমতে যে তাকে মানবে না সে বেশ্যার সস্তান, পাক্কা কাফের এবং নিশ্চিত জাহান্নামী। (কালিমাতুল ফসল : ১১০ ; রুহানি খাযায়েন : ৫/৫৪৭-৫৪৮; তাজকিরা : ২৮০)