১. ইরতিদাদ মানে ইসলাম থেকে ফিরে যাওয়া। আর যানদাকা অর্থ মুখে মুখে মুসলিম হওয়ার দাবি থাকা সত্ত্বেও ইসলামের কোনো মৌলিক আকীদা অস্বীকার করা বা তার বিকৃতি করা। এটি নিফাক (মুনাফেকী)-এর ভয়াবহ প্রকাশ। (প্রবন্ধকার)
২. কাদিয়ানিয়াত যে ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মতবাদ- তা কিন্তু স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের গুরুজনেরাও তা স্বীকার করে এবং তাদের লিখনী ও যবানীতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিবৃতিও এসেছে। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ‘প্রথম খলীফা’ হাকীম নুরুদ্দীনের (মৃত্যু : ১৯১৪ ঈ.) স্পষ্ট ঘোষণা শুনুন-
ان کا اسلام اور ہےاور ہمارا اسلام اور ہے
তাদের ইসলাম ভিন্ন আর আমাদের ইসলাম ভিন্ন। -কাদিয়ান থেকে প্রকাশিত আলফযল পত্রিকা; তারিখ : ৩১-১২-১৯১৪ ঈ., পৃ. ৬, প্রথম কলাম
অর্থাৎ কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রথম খলীফা হাকীম নুরুদ্দীন এখানে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে, অ-আহমদী তথা মুসলমানদের ইসলাম ভিন্ন আর আহমদী তথা কাদিয়ানীদের ইসলাম ভিন্ন। নিজেদের ধর্মের নাম যা-ই দিক না কেন, তারা যে (ইসলাম থেকে ভিন্ন) একটি স্বতন্ত্র মতবাদের অনুসারী- একথা তাদের গুরুরা অকপটে স্বীকার করে। যদিও মুসলিম সমাজে কিংবা সরলমনা সাধারণ কাদিয়ানীদের নিকট তারা বিষয়টি চেপে যেতে চায়। তবে বাস্তবতা তাই, যা হাকীম নুরুদ্দীন বলেছে।
অতএব অবিচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরায় যে ইসলাম আমাদের নিকট পৌঁছেছে এবং আল্লাহ তাআলার ওয়াদা অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত যা সংরক্ষিত এবং সুরক্ষিত থাকবে, কাদিয়ানীবাদ এ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং পৃথক মতবাদের নাম। মূলত যা ইসলামের মোকাবেলায় দাঁড় করানো একটি কুফুরী মতবাদ, যাকে তারা ইসলাম বলে ব্যক্ত করে।
কাদিয়ানীদের লাহোরী গ্রুপের আমীর মোহাম্মাদ আলী লাহোরী বলে-
The Ahmadiyya movement stands in the same relation to Islam in which christinaity stood to Judaism.
ইসলামের সাথে আহমদিয়াত তেমনই সম্পর্ক রক্ষা করে, যেমন সম্পর্ক ছিল ইহুদী ধর্মের সাথে খ্রিস্ট ধর্মের। -রিভিউ অব রিলিজিয়নস, ইংরেজি ১৯০৬; বরাতে মুবাহাসা রাওয়ালপিন্ডি, পৃ. ২৪০, দারুল ফযল, কাদিয়ান
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আলী লাহোরী একথা বলেছে মির্যা কাদিয়ানীর মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পূর্বে ১৯০৬ সনে। তখনও সে কাদিয়ানীদের মূল জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি।
মোটকথা, ইহুদী ধর্ম এবং খ্রিস্ট ধর্ম যেমন পৃথক দুটি ধর্ম তেমনি কাদিয়ানীরাও ইসলাম থেকে নিজেদের ধর্মমতকে পৃথক ধর্ম বলে বিশ্বাস করে। এ বিষয়টি তাদের মতবাদের মূল বিশ্বাসের অংশ। মির্যা কাদিয়ানীর বক্তব্য থেকেও তা প্রমাণিত।
এরপরও যে তারা নিজেদের ধর্মমতকে ইসলাম নাম দেয় এটা নিছক তাদের প্রতারণা। বিষয়টি স্বতন্ত্র আলোচনার দাবি রাখে। আপাতত এখানে এতটুকু উল্লেখ করা হল। আল্লাহ তাআলা জালেমদের সকল প্রতারণা থেকে উম্মতকে হেফাযত করুন- আমীন। (প্রবন্ধকার)
৩. আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রায় ছয়শ বছর পূর্বে এসেছিলেন নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম। ইহুদীরা তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে আসমানে তুলে নেন। কিয়ামতের পূর্বে আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুনরায় দুনিয়ায় পাঠাবেন। এটা ইসলামের মুতাওয়াতির ও অনুসৃত আকীদা। কুরআন-হাদীসে এর বিস্তারিত বিবরণ এসেছে।
মির্যা কাদিয়ানীর একটি কুফর এবং নির্জলা মিথ্যা হল, সে একদিকে হযরত ঈসা আ.-কে ‘মৃত’ বলে এবং কিয়ামতের পূর্বে তাঁর পৃথিবীতে আগমনের বিষয়টি অস্বীকার করে। অপরদিকে নির্লজ্জভাবে সে এ দাবিও করে যে, হাদীসে যে মাসীহের আগমনের কথা রয়েছে, সে নিজেই সেই মাসীহ। এ হিসাবে সে নিজেকে ‘মসীহে মাওঊদ’ বা প্রতিশ্রুত মাসীহ বলে এবং কাদিয়ানীরাও।
তাদের এ কুফুরী বিশ্বাস সম্পর্কে এখানে কিছু বলছি না। শুধু এতটুকু বলতে চাচ্ছি যে, মির্যা কাদিয়ানী ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের বক্তব্যে যেখানে যেখানে ‘মসীহে মাওঊদ’ শব্দ আসে সেখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য খোদ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। (প্রবন্ধকার)
৪. শুধু তাই নয়, কাদিয়ানীদের নিকট কাফের হওয়ার জন্য মির্যা কাদিয়ানীর অস্বীকার ও বিরোধিতাই একমাত্র কারণ নয়; বরং কাদিয়ানী বিশ্বাস মতে, যারা মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে মেনে নেবে না, তারাই কাফের। চাই সে জীবনে মির্যা কাদিয়ানীর নামটাও না শুনুক। কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় খলীফা মির্যাপুত্র বশীরুদ্দীন মাহমুদের বক্তব্যে দেখুন-
کل مسلمان جو حضرت مسیح موعود کی بیعت میں شامل نہیں ہوئے خواہ انہوں نے حضرت مسیح موعود کا نام بھی نہیں سنا وہ کافر اور دائرہ اسلام سے خارج ہے۔
সকল মুসলমান, যারা হযরত মসীহে মাওঊদের (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) বাইয়াতে শামিল হয়নি, চাই তারা হযরত মসীহে মাওঊদের (মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) নামটাও না শুনুক, তারা কাফের এবং ইসলাম থেকে খারেজ। -আয়নায়ে সাদাকাত, লেখক, মির্যা মাহমুদ, আনওয়ারুল উলূম (মির্যা মাহমুদের রচনা সমগ্র) ৬/১১০
এমনকি মুসলিম শিশুদের ক্ষেত্রেও তাদের এ কুফুরী বিশ্বাসের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং ‘আপোষহীন’।
মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর জ্যেষ্ঠপুত্র ও কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলীফা মির্যা মাহমুদকে একজন জিজ্ঞাসা করল, গায়রে আহমদীর (কাদিয়ানী নয় এমন) ব্যক্তির নাবালেগ শিশুর জানাযা কেন পড়া হবে না? সে তো মাসুম (নিষ্পাপ) এবং এ বাচ্চার ক্ষেত্রে তো এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, শিশুটি বড় হয়ে আহমদী হয়ে যাবে।
এর উত্তরে মির্যা মাহমুদ বলে-
جس طرح عیسائی کے بچےکا جنازہ نہیں پڑھا جاسکتا۔ اگرچہ وہ معصوم ہی ہوتاہے۔ اسی طرح ایک غیراحمدی کے بچے کا بھی جنازہ نہیں پڑھا جاسکتا۔ جس طرح ایک غیر احمدی کے بچے کے متعلق امکان ظاہر کیا جاتا ہے۔ کہ وہ بڑا ہوکر احمدی ہوتا اسی طرح کا امکان ایک عیسائی کے بچے کے متعلق بھی ہوسکتا ہے۔
যেমনিভাবে কোনো খ্রিস্টান শিশুর জানাযা পড়া যায় না, যদিও সে নিষ্পাপই হয়ে থাকে; তদ্রূপ কোনো গায়রে আহমদী শিশুর জানাযাও পড়া যাবে না। যেমনিভাবে কোনো গায়রে আহমদী শিশুর ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা প্রকাশ করা যায় যে, সে বড় হয়ে আহমদী হয়ে যাবে; এরূপ সম্ভাবনা একটি খ্রিস্টান শিশুর ক্ষেত্রেও হতে পারে। -কাদিয়ান থেকে প্রকাশিত পত্রিকা আলফযল, তারিখ : ২৩-১০-১৯২২ ঈ.; পৃ. ৬ (১ম কলাম)
স্পষ্ট তুলনা। ইসলামের দৃষ্টিতে খ্রিস্টানদের যে অবস্থান, কাদিয়ানীদের বিশ্বাস অনুসারে তাদের নিকট মুসলমানদের অবস্থান তেমনই।
কাদিয়ানীদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের কাফের মনে করার প্রসঙ্গটি স্বতন্ত্রভাবে আলোচনার বিষয়। এখানে এদিকটার প্রতি খুব সংক্ষেপেই ইশারা করা হল মাত্র। (প্রবন্ধকার)
৫. অর্থাৎ কোনো কুফুরী বক্তব্যের কুফর হওয়ার বিষয়টি চিহ্নিত করার জন্য তা উদ্ধৃত করা কুফর নয়; বরং তা নাহী আনিল মুনকারের অন্যতম জরুরি অংশ।
বি. দ্র. বক্ষমান প্রবন্ধের উদ্ধৃতিগুলো সরাসরি মির্যা কাদিয়ানীর স্বলিখিত পুস্তকাদি এবং কাদিয়ানীদের নিকট নির্ভরযোগ্য পুস্তকসমূহ থেকে হুবহু উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শব্দ-বাক্যের বিন্দুমাত্র পার্থক্য করা হয়নি। অতএব উদ্ধৃতিগুলো কাদিয়ানীদের কি না- এ ব্যাপারে কোনোরূপ সংশয়-সন্দেহের অবকাশ নেই।
দ্বিতীয় কথা হল, কাদিয়ানীরা মির্যার যেসকল বই বাংলা ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেছে সেখান থেকে মির্যার বক্তব্যের অনুবাদ তুলে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নিজের থেকে তরজমা করা হয়নি। পাঠক তাদের অনুবাদ থেকেই তাদের কুফ্র স্পষ্ট ধরতে পারবেন। (প্রবন্ধকার)
৬. এই কথাটি মির্যার প্রতারণার অংশ। শাব্দিক বিরোধ বলে সে তার নবুওত দাবির বিষয়টাকে খুব সাধারণ করে পেশ করতে চাচ্ছে। অথচ পরক্ষণেই যে সে নবীর সংজ্ঞা দিচ্ছে এবং তাতে যে সে উত্তীর্ণ হয়েছে এ ব্যখ্যার মাধ্যমেই তার চাতুরিপনা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। (প্রবন্ধকার)
৭. কাদিয়ানী বিশ্বাস মতে মির্যার ইলহাম সাধারণ কিছু নয়। এটা তাদের নিকট অকাট্য ওহীর। এখানে যে ইলহাম ইলহাম করছে এগুলো মূলত তার নিকট ওহী, একটু পরেই যা স্পষ্টভাবে বলেছে- ‘আমার উপর কয়েক বছর যাবতই ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে এবং …’। (প্রবন্ধকার)
৮. হায়! ইসলামের মূল আকীদা এবং বৈশিষ্ট্য যে, আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে নবুওতের ধারা সমাপ্ত, তার জানাযা দিয়ে ইসলামের বৈশিষ্ট্যের সবক শেখাচ্ছে! এবং ইসলামকে জীবিত রাখার স্লোগান দিয়ে নিজের নবুওত সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে! (প্রবন্ধকার)
৯. মির্যা কাদিয়ানী বারবার শুধু নিদর্শন প্রকাশ এবং ভবিষ্যদ্বাণীর আওয়াজ তুলে। অথচ সে তার যে যে ভবিষ্যদ্বাণীর উপর যত বেশি জোর দিয়েছে এবং সেগুলোকে তার বিশেষ নিদর্শন হিসাবে উল্লেখ করেছে আল্লাহ তাআলা সবগুলোতে তাকে তত লাঞ্ছিত করেছেন। তবুও সে অবিরাম নিদর্শন ও ভবিষ্যদ্বাণীর ধোঁয়া তুলে যায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। যা তার দাজ্ল এবং প্রতারণার অংশ।
বিস্তারিত জানতে দেখুন, কাদিয়ানিয়াত পর গওর করনে কা সীধা রাস্তা, মাওলানা মনযুর নুমানী রাহ.; আহাম পেশগোইয়াঁ, হাফেয মুহাম্মাদ ইকবাল রাঙ্গুনী এবং এই প্রবন্ধের ১৫ নং টীকা। (প্রবন্ধকার)
১০. মির্যা সাহেবের মুখে হাজার হাজার লাখ লাখ নিদর্শন বা মুজেযা প্রকাশের কথা যতই উচ্চারিত হোক না কেন এগুলো সবই মিথ্যা এবং প্রতারণা। যার কোনোই বাস্তবতা নেই। ফলশ্রুতিতে কাদিয়ানীরা দূরবর্তী ব্যাখ্যা করেও মির্যার নিদর্শন এবং ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তবতা প্রমাণ করতে পারে না; ফলে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া ছাড়া উপায়ও থাকে না। (প্রবন্ধকার)
১১. মির্যা কাদিয়ানী এখানে মুজেযা প্রকাশের দাবি করছে। এটা মির্যার ভয়াবহ ধৃষ্টতার একটা রূপ। সে আল্লাহর নামে মিথ্যাচার করছে। আল্লাহ নাকি নিজের কথা শক্তিশালী করার জন্য তার মাধ্যমে মুজেযা এবং নিদর্শন প্রকাশ করেছেন, আল্লাহর চেহারা দেখার জন্য যা স্বচ্ছ আয়নার কাজ দিয়েছে- নাউযুবিল্লাহ।
অথচ বাস্তব কথা হল, এর কোনোই সত্যতা নেই। অস্পষ্টভাবে এটা সেটা বলে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া মাত্র। আর যেখানেই সে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেছে সেখানে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। (প্রবন্ধকার)
১২. এগুলো মূলত শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ বলেন-
وَ اِنَّ الشَّیٰطِیْنَ لَیُوْحُوْنَ اِلٰۤی اَوْلِیٰٓـِٕهِمْ لِیُجَادِلُوْكُمْ.
আর নিঃসন্দেহে শয়তান তার দোস্তদের প্রতি ওহী প্রেরণ করতে থাকে, যাতে তারা তোমাদের সাথে বিবাদ করতে পারে। -সূরা আনআম (৬) : ১২১
আর মির্যা কাদিয়ানী যে বলল, একদিক থেকে নবী এবং একদিক থেকে উম্মতী। এই উম্মতী শব্দটি মির্যা কাদিয়ানীর নিজস্ব পরিভাষা। ক্ষেত্র বিশেষে ধোঁকা দেওয়ার জন্য সে এ শব্দ ব্যবহার করে। তবে এর অর্থ সে নিজেই করে দিয়েছে। কাদিয়ানী জামাতের দ্বিতীয় খলীফা মির্যাপুত্র মির্যা বশীরুদ্দীন মাহমুদ মির্যা কাদিয়ানীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি উল্লেখ করতঃ এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলে-
امتی نبی ہونا کمی درجہ کی علامت نہیں بلکہ علو درجہ کی علامت ہے اور ایسے نبی کے ذریعہ سے آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم کی قوت قدسیہ اور کمال فیضان ثابت ہوتا ہے۔
উম্মতী নবী হওয়া কম মর্যাদার আলামত নয়; বরং তা উঁচু মরতবার আলামত। আর এমন নবীর মাধ্যমে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র শক্তি এবং ফায়যের পূর্ণধারা প্রমাণিত হয়। -হাকীকতুন নবুওয়াহ, আনওয়ারুল উলূম ২/৩৬৩
মির্যা মাহমুদ আরো স্পষ্ট করে বলে-
امتی نبی کے یہ معنی نہيں کہ وہ پہلے سب انبیاء سے گھٹیا ہو بلکہ ہو سکتا ہے کہ وہ پہلے بہت سے انبیاء سے یا آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم کے سوا باقی سب انبیاء سے افضل ہو۔
উম্মতী নবী অর্থ এই নয় যে, তিনি পূর্বের সকল নবী অপেক্ষা নিম্ন পর্যায়ের; বরং হতে পারে, তিনি পূর্বের অসংখ্য নবী অপেক্ষা অথবা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য সকল নবী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। -হাকীকতুন নবুওয়াহ, আনওয়ারুল উলূম ২/৩৮২
বুঝা গেল, একদিক থেকে উম্মতী হওয়া মানে নবী হওয়ার অস্বীকার নয়; বরং উঁচু মানের নবী হওয়ার দাবি। তো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলার পরেও নবুওতের মিথ্যা দাবিকে ঢাকা গেল না। (প্রবন্ধকার)
১৩. এখানে একটি কথা মনে রাখলে আশা করি বিষয়টি উপলব্ধি করা সহজ হবে। মির্যা কাদিয়ানীর নবুওত দাবির সাথে তার মুজাদ্দেদ, মুলহাম, মামুর বিশেষ করে মসীহ, মাহদী ইত্যাদি দাবি সাংঘর্ষিক নয়। মির্যা কাদিয়ানী ও তার অনুসারীদের নিকট ফলাফলের বিচারে এ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। তাদের বক্তব্য থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। বক্ষমান প্রবন্ধে তা আলোচ্য বিষয় না হওয়ায় তা স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হল না। তবে এখানে ২, ৩, ৪, ৬-এ এবং সামনে ৯, ১০, ১৫, ১৬-এ উদ্ধৃত মির্যার কয়েকটি বক্তব্য থেকেও পাঠক বিষয়টি আঁচ করতে পারবেন। (প্রবন্ধকার)
১৪. এটি হল এক মিথ্যা দাবি প্রমাণের জন্য আরেক মিথ্যা দাবি। খোদ মির্যার লেখাতেই রয়েছে, মহামারির প্রকোপে কাদিয়ান কত মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। দেখুন পরবর্তী (১৫ নং) টীকা। (প্রবন্ধকার)
১৫. বাংলায় এখানে রাসূলের অনুবাদ প্রেরিত করলেও মির্যার আরবী বক্তব্য, মির্যা কর্তৃক এর উর্দু তরজমা এবং ব্যাখ্যায় রাসূল শব্দই এসেছে। এমনকি বাংলা দাফেউল বালাতেও অন্য জায়গায় ‘প্রেরিত রাসূল’ তরজমা করা হয়েছে। দেখুন, ৯ নং উদ্ধৃতি। মোটকথা, মির্যা কাদিয়ানী এখানে নিজেকে রাসূল বলে দাবি করেছে। আর এর সাথে ভবিষ্যদ্বাণী জুড়ে দিয়েছে।
তো মির্যা কাদিয়ানী তাকে রাসূল হিসাবে না মানার কারণে যেই মহামারিকে আসমানী শাস্তি হিসাবে দেখাতে চাইল এবং তার উপস্থিতির কারণে তার এলাকা কাদিয়ান নিরাপদ থাকার ঘোষণা দিল এখন মির্যার নিজের যবানীতেই সংক্ষেপে শুনুন তার নিজের ও তার এলাকার কী অবস্থা-
مخدومی مکرمی اخویم سیٹھ صاحب سلمہ۔ … اس طرف طاعون کا بہت زور ہے سنا ہے ایک دو مشتبہ وارداتیں امرتسر میں بہی ہوئی ہیں۔ چند روز ہوئے میرے بدن پر بہی ایک گلٹی نکلنی تہی…
মাখদুমী শ্রদ্ধেয় ভাই আমার, …এখানে প্লেগের প্রকোপ খুব বেশি। শুনেছি, এ ধরনের দু একটি ঘটনা অমৃতসরেও হয়েছে। কয়েকদিন হল আমার শরীরেও একটি গিল্টি বের হতে নিচ্ছিল। -মাকতুবাতে আহমদিয়া, ৫ম খণ্ড, ১ম অংশ, মাকতুব নং ৩৮, পৃ. ১৫ (তারিখ : ২৫ এপ্রিল ‘৯৮ ঈ.)
তাহলে যার দাবি অনুসারে তার উপস্থিতি কাদিয়ানকে রক্ষা করবে, আমরা দেখলাম, তিনিই বললেন, না কাদিয়ান রক্ষা পেল, আর না তিনি নিজে রক্ষা পেলেন!
এ হল তার সাক্ষ্য-প্রমাণ!! কাদিয়ান মহামারিতে আক্রান্ত হওয়ার এরকম আরো উদ্ধৃতি রয়েছে মির্যার লেখায় এবং চিঠিপত্রে। তো যাইহোক, এ হল মির্যা সাহেবের ভবিষ্যদ্বাণীর অবস্থা! (প্রবন্ধকার)
১৬. হাঁ, সকল জাতির জন্য নিদর্শন তো বটে। তবে তাতে তো মির্যা সাহেবের মিথ্যা ও অসারতাই প্রমাণিত হয়। কারণ তার বক্তব্য অনুযায়ী কাদিয়ানও মহামারিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। (প্রবন্ধকার)
১৭. সঙ্গত কারণে এখানে মির্যা কাদিয়ানীর এ পুস্তিকাটি প্রণয়নের প্রেক্ষাপট সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা জরুরি মনে হচ্ছে।
খতমে নবুওতের আকীদা ইসলামের অকাট্য মৌলিক আকীদা। অবিচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরায় মুসলমানরা এ আকীদা পোষণ করে আসছে। এ ভিত্তিতে প্রথম প্রথম মির্যার কোনো কোনো অনুসারীও ভাবতে পারেনি যে, তাদের হযরত বাস্তবিক অর্র্থেই নবী হবার দাবি করেছে।
সে হিসাবে একবার একজন এক কাদিয়ানীকে লক্ষ্য করে বলল- তোমরা যার হাতে বাইয়াত হয়েছ সে তো নবী এবং রাসূল হবার দাবি করে। একথা শুনে ওই কাদিয়ানী বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে। মির্যা কাদিয়ানী যখন এ খবর শুনতে পায় তখন সে জবাব দেয়, এমন উত্তর দেওয়া সঠিক নয়। সে তখন তার অনুসারীদের কুফুরী বিশ্বাস পোক্ত করার জন্য রচনা করে এই পুস্তিকা। আর এর নামকরণ করে- এক গলতি কা এযালা (একটি ভুল সংশোধন)। এখানে মির্যা তার নবুওত দাবির বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে। যেখানে অস্পষ্টতার কিছু বাকি থাকেনি।
[দ্রষ্টব্য : এক গলতি কা ইযালা, ১ ; রূহানী খাযায়েন ১৮/২০৬; একটি ভুল সংশোধন, (বাংলা), পৃ. ৩] (প্রবন্ধকার)
১৮. আমরা জানি, কুরআনুল কারীম আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে এবং এর তিলাওয়াতের বিভিন্ন কেরাত রয়েছে। মুতাওয়াতিরভাবে সেগুলো প্রমাণিত।
কিন্তু লক্ষ করুন, এখানে মির্যা কাদিয়ানী কুরআন মাজীদের তিলাওয়াত-শৈলীর সাথে খুবই সূক্ষ্মভাবে নিজের নবুওত দাবি সম্বলিত উর্দু বক্তব্যকে তুলনা করে বলছে- ইস কী দুসরী কেরাত হ্যয় …-এর অন্য কেরাত হল…। অর্থাৎ কেরাতের বিষয়টি, যা তিলাওয়াতে কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত সেটাকে সে নিজের কুফুরী বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করছে।
মির্যা কাদিয়ানীর কুফুরীর এটাও একটি জঘন্য দিক। অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সে নিজের বিভিন্ন বক্তব্যকে আল্লাহর কালামের সাথে তুলনা করে করে উল্লেখ করে।
বাংলা ভাষার পাঠক হয়ত ভাবছেন- কই, এখানে তো কেরাতের কোনো প্রসঙ্গ দেখা যাচ্ছে না। হাঁ, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ‘ইস কী দুসরী কেরাত হ্যয় …’ (যার মূল অনুবাদ হল, এর অন্য কেরাত হল…।) -এর অনুবাদ করেছে, ‘এ ওহীটির আর এক বর্ণনা আছে …’- এভাবে রয়েসয়ে। যাতে তাদের গুরু মহোদয় যে, নিজের উর্দু প্রলাপকে পবিত্র কুরআন মাজীদের সাথে তুলনা করেছেন, অন্তত এখানে এ অসারতা কেউ টের না পায়। স্পষ্ট কথা, এটা তাদের পক্ষ থেকে খেয়ানত।
আরো লক্ষ্য করার বিষয় হল, ‘বারাহীনে আহমদিয়া’ তার ১৮৮০-১৮৮৪ সনের রচনা। পরবর্তীতে নবুওত দাবি করার পর সে এ বইয়ের বিভিন্ন উদ্ধৃতিকে ওহী হিসাবে পেশ করতে থাকে। নবুওতের মিথ্যা দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য এ আরেক প্রতারণা। (প্রবন্ধকার)
১৯. মির্যা কাদিয়ানীর উল্লেখকৃত এ আলামতের বিচারেও যদি তাকে পরখ করা হয় তবুও তার দাবি প্রমাণিত হয় না।
এক. নবী হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিবেকের কাঠগড়ায় যদি ব্যক্তি মির্যা কাদিয়ানীকে তোলা হয় তাহলে সে একটি সভ্য সমাজের সাধারণ সদস্য হওয়ারও উপযুক্ত থাকে না। ‘সীরাতুল মাহদী’ ও ‘যিকরে হাবীব’সহ তার জীবন চরিত নিয়ে রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো যার জ্যান্ত সাক্ষী।
তাছাড়া আল্লাহ তাআলা যখন ঘোষণাই করে দিয়েছেন, নবুওতের ধারা সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল হলেন হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাহলে তো তাঁর পর কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নবুওত লাভ করার সম্ভাবনাই নেই। এখন যদি কোনো ফিরিশতা-সিফাত ইনসানও নবুওত দাবি করে তা-ও সে মিথ্যাবাদী। তার কাছে নিদর্শন তলব করাও জায়েয নেই। এমনকি যদি এ ধরনের মিথ্যা দাবিদারের হাতে অলৌকিক কিছু প্রকাশ পায় (যা প্রকৃতপক্ষে ভেল্কিবাজি) তবুও সে মিথ্যাবাদী। তাকে গ্রহণ করা স্পষ্ট কুফর। এটাই সুস্থ বিবেক এবং ইসলামী শরীয়তের ফয়সালা।
আর উম্মতের হেদায়েতের জন্য তো নবীজী কিতাব ও সুন্নাহ রেখে গিয়েছেন এবং স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, যতক্ষণ তা আঁকড়ে ধরবে তোমরা ভ্রষ্ট হবে না। কিতাব ও সুন্নাহ যা নবীর ওয়ারিসগণ ধারণ করে রেখেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যার তালীম প্রচার-প্রসার করে যাবেন সেটাই হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট।
দুই. তার ব্যাপারে পূর্ববর্তী নবীদের ভবিষ্যদ্বাণীর যে দাবি করেছে তা তো সম্পূর্ণই মিথ্যা।
তিন. আর আসমানী সমর্থন বলতে যে সে তার সত্যতার নিদর্শন এবং ভবিষ্যদ্বাণীর কথা বোঝায়- সেক্ষেত্রে তো আল্লাহ তাআলা তাকে পদে পদে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করেছেন। বিস্তারিত জানতে দেখুন ‘আহাম পেশগোইয়াঁ, হাফেয মুহাম্মাদ ইকবাল রাঙ্গুনী; এবং দেখুন এই প্রবন্ধের ১৫ নং টীকা। (প্রবন্ধকার)
২০. হাঁ, আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি দয়া করে মির্যার মধ্যে মিথ্যাবাদী এবং মহাপ্রতারক হওয়ার এত স্পষ্ট স্পষ্ট নিদর্শন বিদ্যমান রেখেছেন, যাতে খুব সহজেই তার দাজ্ল ও কুফর ধরা পড়ে যায়। (প্রবন্ধকার)
২১. অর্থাৎ মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। মির্যা সাহেব নিজে এবং তার অনুসারীরা তাকে মসীহে মওঊদ দাবি করে থাকে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা যেমন তার নবী হবার দাবিটি নির্জলা মিথ্যা। (প্রবন্ধকার)
২২. মাধ্যম হয়ে নবুওত লাভ করা আর সরাসরি নবুওত লাভ করার এই বিভাজন কাদিয়ানীদের আবিষ্কৃত একটি নীতি। তাদের বিশ্বাস মতে মির্যা সাহেব নাকি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহানী তালীমের মাধ্যমে নবী হয়েছেন। কিন্তু যে ব্যক্তি এত এতভাবে এত এত পরিমাণে ওহী প্রাপ্তির দাবি করে (যার কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেছনের উদ্ধৃতিগুলোতে পাঠক লক্ষ্য করে এসেছেন) এবং যে দাবি করে- তার নিকট হযরত জিবরাঈল আ. ওহী নিয়ে আগমন করেন এবং বার বার আগমন করেন (দেখুন, হাকীকতুল ওহী, পৃ. ১০৩; রূহানী খাযায়েন ২২/১০৬) তার সরাসরি নবুওত লাভ করার দাবি করতে আর কী বাকি থাকে! আসল কথা হচ্ছে, কাদিয়ানীদের মতে মির্যা সাহেব যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহানী তালীমের মাধ্যমে নবী হয়েছেন, যার কারণে তিনি উম্মতী নবীও বটে, এর মাধ্যমে মির্যাকে তারা অন্যান্য নবী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকে। অতএব সরাসরি নবুওত লাভ না করে মাধ্যম হয়ে নবুওত লাভ করা মানে উঁচু মানের নবুওত দাবি করা। পরের বাক্যেই যা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। আরো দেখুন ১২ নং টীকা। (প্রবন্ধকার)
২৩. নবুওত একমাত্র আল্লাহর দান। আর আল্লাহ তাআলা হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আখেরী নবী ঘোষণা করেছেন। কারো তালীমের দ্বারা কেউ নবী হতে পারে না। আর মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তো জীবনভর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালীমের বিরোধিতাই করেছে। তাই এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ-এর তালীমের কথা উল্লেখ করা প্রতারণা বৈ কিছু নয়। (প্রবন্ধকার)
২৪. যদিও মির্যা কাদিয়ানীর দাবি হল সে সকল নবী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। মির্যা বলে-
آنچہ دادست ہر نبی را جام/ داد آں جام را مرا بتمام
যিনি সকল নবীকে সুধা পান করিয়েছেন তিনি সেই সুধা সবটুকু আমাকে দান করেছেন। -নুযূলুল মাসীহ, পৃ. ৯৯; রূহানী খাযায়েন ১৮/৪৭৭ (প্রবন্ধকার)
২৫. তাদের উম্মতী শব্দের মধ্যেই নবুওতের দাবি নিহিত রয়েছে। দেখুন এই প্রবন্ধের ১২ নং টীকা। তাই তো এখানেই উম্মতী বলার পাশাপাশি বলেছে, ‘তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো পূর্ববর্তী কোনো কোনো নবী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিলেন’। নাউযুবিল্লাহ। (প্রবন্ধকার)
২৬. মির্যা সাহেব শরীয়ত অধিকারী নবী হিসাবেও নিজেকে সাব্যস্ত করেছেন। যদিও কাদিয়ানীরা তা অস্বীকার করতে চায়। এটি স্বতন্ত্র আলোচনার বিষয়। আপাতত এখানে মির্যা সাহেবের একটি বক্তব্য লক্ষ্য করুন-
یہ بھی تو سمجھو کہ شریعت کیا چیز ہےجس نے اپنی وحی کے ذریعہ سے چند امر اور نہی بیان کئے اور اپنی امت کے لئے ایک قانون مقرر کیا وہی صاحب الشریعت ہوگیا۔ پس اس تعریف کے رو سے بھی ہمارے مخالف ملزم ہیں کیونکہ میری وحی میں امر بھی ہیں اور نہی بھی ۔… اور ایسا ہی اب تک میری وحی میں امر بھی ہوتے ہیں اور نہی بھی…
এটাও তো বোঝ যে, শরীয়ত কাকে বলে? যিনি নিজের ওহীর মাধ্যমে কিছু আদেশ-নিষেধ বর্ণনা করেন এবং নিজের উম্মতের জন্য একটি বিধান নির্ধারণ করে দেন তিনিই শরীয়তের অধিকারী হয়ে গেলেন। অতএব এই সংজ্ঞার আলোকেও আমার প্রতিপক্ষ ফেঁসে যায়। কেননা আমার ওহীতে আদেশও আছে এবং নিষেধও।… আর তেমনিভাবে এখন পর্যন্ত আমার ওহীতে আদেশও থাকে এবং নিষেধও।… -আরবাঈন নম্বর ৪, পৃ. ৬; রূহানী খাযায়েন ১৭/৪৩৫, ৪৩৬
দেখুন, মির্যা সাহেব এখানে স্পষ্টভাবে নিজেকে শরীয়তের অধিকারী সাব্যস্ত করছেন। (প্রবন্ধকার)
মির্যা গোলাম কাদিয়ানীর নবুওতের মিথ্যা দাবির কিছু নমুনা
মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর