অলী, আবদাল, গাওস ও কুতুব বিষয়ে আক্বীদা
বুযুর্গানে দ্বীন লিখেছেন, মানব জগতে বার প্রকার অলী-আউলিয়া রয়েছে। তারা হল-
১. কুতুব : তাকে কুতুবুল আলম কুতুবুল আকবার, কুতুবুল ইরশাদ ও কুতুবুল আকতাবও বলা হয়। আলমে গায়েবের মধ্যে এ কুতুবকে আবদুল্লাহ নামে আখ্যায়িত করা হয়। তার দুজন উযীর থাকেন। যাদেরকে ইমামাইন বলা হয়। ডানের উযীরের নাম আবদুল মালিক। বামের উযীরের নাম আবদুর রব। এছাড়া আরো বার জন কুতুব থাকেন, সাত জন সাত একলীমে থাকেন, তাদেরকে কুতুবে একলীম বলা হয়। আর পাঁচ জন ইয়েমেনে থাকেন, তাদেরকে কুতুবে বেলায়েত বলা হয়। এই নির্দিষ্ট কুতুবগণ ব্যতীত অনির্দিষ্টভাবে প্রত্যেক শহরে এবং প্রত্যেক গ্রামে থাকেন এক একজন করে।
২. ইমামাইন: ব্যাখ্যা উপরে বর্ণিত হয়েছে।
৩. গাওস: গাওস মাত্র একজন থাকেন। কেউ কেউ বলেছেন, কুতুবকেই গাওস বলা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, কুতুব আর গাওস এক নয়। গাওস ভিন্ন। তিনি মক্কা শরীফে থাকেন।
৪. আওতাদ: আওতাদ চারজন। পৃথিবীর চার কোনে চার জন থাকেন।
৫. আবদাল: আবদাল থাকেন চল্লিশ জন।
৬. আখয়ার: তারা থাকেন পাঁচশ জন কিংবা সাতশ জন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তাঁরা ভ্রমণ করতে থাকেন।
৭. আবরার: অধিকাংশ বুযুর্গানেদ্বীন আবদালগণকেই আবরার বলেছেন।
৮. নুকাবা: নুকাবা আলী নামে ৩০০ জন পশ্চিম দেশে থাকেন।
৯. নুজাবা: নুজাবা হাসান নামে ৭০ জন মিসরে থাকেন।
১০. আমূদ: আমূদ মুহাম্মদ নামে চারজন পৃথিবীর চার কোণে থাকেন।
১১. মুফাররিদ: গাওসই উন্নতি করে ফারদ বা মুফাররিদ হয়ে যান। আর ফারদ উন্নতি করে কুতুবুল আহদাত হয়ে যান।
১২. মাকতুম: মাকতুম শব্দের অর্থ লুকায়িত। অর্থ যেমন তারাও তেমনি লুকায়িত থাকেন।
উল্লেখ্য, অলীদের এই প্রকার এবং এই বিবরণ সম্পর্কে হাদীসে খুলে কিছু বলা হয়নি, শুধু বুযুর্গানেদ্বীনের কাশফ দ্বারা এটা জানা গেছে। আর কাশফ যার হয় তার জন্য সেটা দলিল। অন্যদের জন্য সেটা দলিল নয়। অতএব এসব নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা তর্কবিতর্ক করা ঠিক নয়।