কাদিয়ানীদের শত প্রজন্ম পরিবর্তন হলেও তারা যিনদীকই রয়ে যাবে। কারণ তাদের যে অপরাধ, অর্থাৎ কুফরকে ইসলাম আর ইসলামকে কুফর বলা, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও তা পাওয়া যায়। চাই তারা ইসলাম ত্যাগ করে কাদিয়ানী হোক বা জন্মগতভাবে কাদিয়ানী।
কাদিয়ানীদের ব্যাপারে মুসলমানদের আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় দেওয়া উচিত
কাদিয়ানীদের একটি অপরাধ সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হল। এবার আরেকটি কথা বলছি, তার আগে একটি উদাহরণ পেশ করছি-
‘এক লোকের দশ সন্তান। তারা তার ঘরেই জন্ম নিয়েছে। সেও তাদেরকে নিজ সন্তান বলে পরিচয় দেয়। ওই লোকটির মৃত্যুর পরে অন্য একজন এই দাবি করল, আমি মৃত লোকটির আসল সন্তান। ওই দশজন তার সন্তান নয়।’
এর ভিত্তিতে আপনাদের কাছে দুটি প্রশ্ন। একটি হল, পৃথিবীর কোনো আদালত কি এই অপরিচিত ব্যক্তির দাবি শুনে রায় দেবে, সে-ই মৃত লোকটির আসল সন্তান আর ওই দশজন তার সন্তান নয়?
দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, এই ব্যক্তি যে ওই দশজনকে তাদের বাবার আসল সন্তান বলে মানে না। এখন ওই দশজন এর সাথে কেমন আচরণ করবে?
এ দুটি ব্যাপার মনে রেখে এবার শুনুন, আলহামদু লিল্লাহ! আমরা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত। তাঁর আনীত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন মানি। আমরা তাঁর রূহানী সন্তান। এই ব্যাপারে কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
اَلنَّبِیُّ اَوْلٰی بِالْمُؤْمِنِیْنَ مِنْ اَنْفُسِهِمْ.
মুমিনদের জন্য নবী তাদের নিজেদের প্রাণ অপেক্ষাও বেশি ঘনিষ্ঠ। -সূরা আহযাব (৩৩) : ৬
অর্থাৎ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কোনো ব্যক্তির নিজের সত্তার সাথেও এতটা গভীর সম্পর্ক নেই, যতটা গভীর সম্পর্ক হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর প্রতিটি উম্মতের।
তারপরে বলা হয়েছে, وَ اَزْوَاجُهٗۤ اُمَّهٰتُهُمْ ‘আর তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা।’ স্পষ্ট কথা, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুণ্যবতী স্ত্রীগণ আমাদের মা, আমরা তাঁদেরকে উম্মাহাতুল মুমিনীন বলি, কাজেই তাঁরা আমাদের মা হলে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের রূহানী পিতা। সন্তানদের মধ্যে কেউ মা-বাবার বেশি অনুগত আর কেউ কম। সকল সন্তান একরকম হয় না। তাদের মধ্যে পার্থক্য হয়। কিন্তু সকলেই তাদের পিতার সন্তান।
তের শ শতাব্দী ধরে মুসলমানগণ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাঁটি উম্মত ছিলেন, তাঁর রূহানী সন্তান ছিলেন। চৌদ্দশ শতাব্দীর শুরুতে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এসে দাবি করল, শুধু সে এবং তাঁর অনুসারীরাই নাকি মুসলমান। বাকি সব মুসলমান কাফের। (দ্রষ্টব্য : তাযকেরাহ, ৫১৯; ২৮০; নুযূলুল মাসীহ, রূহানী খাযায়েন ১৮/৩৮২; হাকীকাতুল ওহী, রূহানে খাযায়েন ২২/১৮৫)
পৃথিবীর সকল সভ্য আদালতে আমাদের অভিযোগ- যদি অপরিচিত কারও এই কথা গ্রাহ্য না করা হয়, ‘আমি ওই লোকটির আসল সন্তান, বাকিরা তার আসল সন্তান নয়।’ তাহলে গোলাম আহমদ কাদিয়ানী এই উম্মতের বাইরের একজন হওয়া সত্ত্বেও তার এই অসার দাবি কেন শোনা হবে?
কথা হল, আমাদের যেসব ভায়েরা কাদিয়ানীদের আহ্বানে প্রতারিত হন তাদের কি ওই দশ সন্তানের মতও আত্মমর্যাদাবোধ নেই! তারা কাদিয়ানীদের এই দাবি কীভাবে মেনে নিচ্ছেন, সারা পৃথিবীর মুসলমানরা ভুল আর মির্যা সঠিক! সারা পৃথিবীর মুসলমান কাফের আর কাদিয়ানীরা মুসলমান! কী আশ্চর্য! তাদের কি বিন্দুমাত্র আত্মমর্যাদাবোধও জাগে না?
মুসলমানদের আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় কী হওয়া উচিত? যিনদীকের ব্যাপারে ইসলামের বিধান তো আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু সেটা মুসলিম সরকারের কাজ। কেউ ব্যক্তিগতভাবে তা করতে পারে না। তবে অন্তত এতটুকু তো অবশ্যই করা দরকার, আমরা কাদিয়ানীদের সাথে পুরোপুরি সম্পর্কচ্ছেদ করব। তাদেরকে আমাদের কোনো মাহফিল-মজলিসে জায়গা দেব না। সর্বাত্মকভাবে তাদের প্রতিহত করব।
ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে পৃথিবীর প্রতিটি জায়গায় তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। একদিন পুরো পৃথিবী এই বাস্তবতা স্বীকার করবে, কাদিয়ানীরা মুসলমান নয়, বরং ইসলামের গাদ্দার। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গাদ্দার। ইনশাআল্লাহ! সারা বিশ্বে কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে। আর শেষ বিজয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর অনুসারীদেরই হবে।
হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআত-প্রত্যাশী প্রত্যেক মুসলমানের কাছে আবেদন- সারা বিশ্বে খতমে নবুওতের ঝাণ্ডা বুলন্দ করার জন্য সকল মুসলমান কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে ঈমানী ও দ্বীনী আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় দিন।
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
[অনুবাদ ও প্রস্তুতকরণ : মাওলানা ফযলুদ্দীন মিকদাদ]