ভালোভাবে বুঝে নেওয়া উচিত, কাদিয়ানীরা কেন যিনদীক। কারণ তারা কাফের হওয়ার সাথে সাথে নিজেদের কুফরকে ইসলাম বলে। নিজেদের ব্যাপারে তারা বলে, ‘আমরা আহমদিয়া জামাত, আমরা মুসলমান। ইসলাম প্রচার করি। নামায পড়ি, রোযা রাখি।’

অথচ তাদের আকীদার একটি বিষয় দেখুন। মুসলমানদের আকীদা হল, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী। এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। বহু হাদীসে নবীজী বিভিন্নভাবে খতমে নবুওতের বিষয়টি বুঝিয়েছেন।

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী- একথার উদ্দেশ্য হল, তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। আর কাউকে নবুওত দেওয়া হবে না। আল্লাহ তাআলা যত নবী পাঠাবেন বলে নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে সর্বশেষ হলেন, হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর আগমনের মাধ্যমে নবী আসার ধারা পূর্ণ হয়ে গেছে।

কাদিয়ানীরা বলে, খাতামুন নাবিয়্যীনের উদ্দেশ্য এটা নয় যে, তাঁর পরে নবুওতের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে; বরং উদ্দেশ্য হল, ভবিষ্যতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোহর থেকে নবী বানানো হবে।

মির্যা কাদিয়ানী বলে, ‘মহা প্রতাপশালী আল্লাহ আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামকে খাতামের অধিকারী বানাইয়াছেন। অর্থাৎ তাঁহাকে পরিপূর্ণ আশিসের জন্য মোহর দেওয়া হয় যাহা আর কোনো নবীকে কখনো দেওয়া হয় নাই। এই কারণেই তাঁহার নাম খাতামুন্নাবীঈন সাব্যস্ত করা হইয়াছে। অর্থাৎ তাঁহার পরিপূর্ণ অনুবর্তিতা নবুওয়ত দান করে এবং তাঁহার আধ্যাত্মিক মনোনিবেশ নবী সৃষ্টিকারী হয়।’ [মির্যা কাদিয়ানীকৃত হাকীকাতুল ওহী, (বাংলা), পৃষ্ঠা ৭৫]

সুতরাং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অর্থে খাতামুন নাবিয়্যীন যে, তাঁর মাধ্যমে অন্যরা নবী হবে। আগে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নবুওত দান করতেন, কিন্তু এখন এই সিদ্ধান্তের ভার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সোপর্দ করা হয়েছে। এখন তিনি মোহর লাগিয়ে নবী বানান।

এই হল যানদাকা। কাদিয়ানীরা যিনদীক। তাদের আকীদা ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারে কুফুরী। কিন্তু তারা নিজেদের কুফুরী আকীদাকে ইসলামের নাম দেয় এবং কুরআন-হাদীসকে নিজেদের কুফুরী আকীদা অনুযায়ী সাজানোর জন্য তাতে বিকৃতি করে।

অতএব চিন্তা করে দেখুন, মির্যা কাদিয়ানী এবং কাদিয়ানীদের কুফরী কতটা জঘন্য!