২ নভেম্বর ১৯০৪ ঈসাব্দতে পাঞ্জাবের সিয়ালকোটে ‘ইসলাম’ নামে মির্যা কাদিয়ানীর একটি লিখিত বক্তব্য পঠিত হয়। পরবর্তীতে তা ‘লেকচার সিয়ালকোট’ নামে প্রকাশিত হয়। মির্যা কাদিয়ানী তাতে বলে-

میرے دعوے کی نسبت اگر شبہ ہو اورحق جوئی بھی ہو تو اس شبہ کا دور ہونا بہت سہل ہے کیونکہ ہر ایک نبی کی سچائی تین طریقوں سے پہچانی جاتی ہے

اول عقل سے ۔ یعنی دیکھنا چاہئے کہ جس وقت وہ نبی یا رسول آیا ہے عقل سلیم گواہی دیتی ہے یا نہیں کہ اس وقت اس کی ضرورت بھی تھی یا نہیں اور انسانوں کی حالت موجودہ چاہتی تھی یا نہیں کہ ایسے وقت میں کوئی مصلح پیدا ہو؟

دوسرے پہلے نبیوں کی پیشگوئی ۔ یعنی دیکھنا چاہئے کہ پہلے کسی نبی نے اس کے حق میں یا اس کے زمانہ میں کسی کے ظاہر ہونے کی پیشگوئی کی ہے یا نہیں؟

تیسرے نصرت الہی اور تا‏‏ئید آسمانی۔ یعنی دیکھنا چاہئے کہ اس کے شامل حال کو‏ئی تا‏‏ئید آسمانی بھی ہے یا نہیں؟

یہ تین علامتیں سچے مامورمن اللہ کی شناخت کے لئے قدیم سے مقرر ہیں۔ اب اے دوستو! خدا نے تم پر رحم کرکے یہ تینوں علامتیں میری تصدیق کے لئے ایک ہی جگہ جمع کردی ہیں۔ اب چاہو تم قبول کرو یا نہ کرو…۔

কাদিয়ানীরা এর অনুবাদ করেছে এভাবে-

“আমার দাবি সম্পর্কে সন্দেহ হলে একইসাথে সত্যের সন্ধানও যদি থাকে তাহলে সে সন্দেহ দূর হওয়া খুব সহজ। কেননা প্রত্যেক নবীর সত্যতা তিনভাবে বুঝা যায়।

প্রথমতঃ যুক্তির মাধ্যমে- অর্থাৎ দেখা উচিত, সে নবী বা রসূল যখন আসলেন সুস্থ বিবেকের সাক্ষ্য কী? তখন তাঁর আসার আদৌ প্রয়োজন ছিল, কি ছিল না? আর মানুষের এমন সময় কোন সংশোধনকারীর জন্ম নেয়ার প্রয়োজন বর্তমান অবস্থা এটা দাবি করে কি করে না?

দ্বিতীয়তঃ পূর্ববর্তী নবীদের ভবিষ্যদ্বাণী- অর্থাৎ দেখা উচিত, পূর্বের কোন নবী তাঁর পক্ষে বা তাঁর যুগে কারো আবির্ভূত হবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কি না?

তৃতীয়তঃ ঐশী সাহায্য এবং আসমানী নিদর্শন, অর্থাৎ দেখা উচিত, তাঁর পক্ষে কোন স্বর্গীয় সমর্থন রয়েছে কি?১৯

এ তিনটি লক্ষণ আল্লাহর সত্য প্রত্যাদিষ্টকে চেনার জন্য আদি থেকে নির্ধারিত। এখন হে বন্ধুগণ! খোদাতাআলা তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে এ তিনটি লক্ষণ আমার সত্যায়নের উদ্দেশ্যে এক স্থানে একত্র করে দিয়েছেন।২০ এখন ইচ্ছা হলে গ্রহণ কর, না হয় প্রত্যাখ্যান কর।” -লেকচার সিয়ালকোট ৫০; রূহানী খাযায়েন ২০/২৪১; ইসলাম (লেকচার সিয়ালকোট) বাংলা, পৃ. ৪২

দেখুন, এখানে মির্যা কাদিয়ানী নিজেকে ‘মামুর মিনাল্লাহ’ বলে প্রকাশ করছে (যার বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে প্রত্যাদিষ্ট) এবং তার দৃষ্টিতে নবীগণের সত্যতার নিদর্শন উল্লেখ করে বলছে, এগুলো নাকি আল্লাহ তাআলা তার সত্যাসত্য প্রমাণের জন্য একজায়গায় একত্র করেছেন। আর এটা কি না দুনিয়াবাসীর জন্য আল্লাহর দয়া! বলুন, নবীগণের সত্যতার মাপকাঠি দাঁড় করিয়ে সে আলোকে নিজের সত্যতা প্রমাণের অপপ্রয়াস চালানোর পর নবী দাবির আর কী বাকি থাকে!