মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মৃত্যুর ঠিক আগ দিয়ে তার নবুওতের দাবির বিষয়টি খুব স্পষ্ট করে লিখে যায়, তাতে অস্পষ্টতার কিছু আর বাকি থাকেনি। যদিও সেখানে সে তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী বিভিন্নভাবে প্রতারণার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার মিথ্যা দাবি কোনোভাবে ঢাকতে পারেনি।
১৭ মে ১৯০৮ সনে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লাহোরে একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে ২৩ মে ১৯০৮ তারিখে ‘আখবারে আম’ পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে এমন সংবাদও আসে যে, মির্যা সাহেব এ জলসায় তার নবুওত দাবি অস্বীকার করেছেন। এ সংবাদ পেতে দেরি, সেদিনই আখবারে আম পত্রিকার সম্পাদক বরাবর মির্যা সাহেব পত্র মারফত এর প্রতিবাদ জানান এবং এর খণ্ডন পেশ করেন। চিঠির নিম্নোক্ত কথাগুলো বিশেষভাবে লক্ষ্য করুন-
جس بناء پر میں اپنے تئیں نبی کہلاتا ہوں وہ صرف اس قدر ہے کہ میں خداتعالےٰ کی ہمکلامی سے مشرف ہوں اور وہ میرے ساتھ بکثرت بولتا اور کلام کرتا ہے اور میری باتوں کا جواب دیتا ہے اور بہت سی غیب کی باتیں میرے پر ظاہر کرتا اور آئندہ زمانوں کے وہ راز میرے پر کھولتا ہے کہ جب تک انسان کو اس کے ساتھ خصوصیت کا قرب نہ ہو دوسرے پروہ اسرار نہیں کھولتا اور انہیں امور کی کثرت کی وجہ سے اس نے میرا نام نبی رکھاہے۔ سو میں خدا کے حکم کے موافق نبی ہوں اور اگر میں اس سے انکار کروں تو میرا گناہ ہو گا ۔اور جس حالت میں خدا میرا نام نبی رکھتا ہے تو میں کیونکراس سے انکار کر سکتا ہوں۔ میں اس پر قائم ہوں اس وقت تک جو اس دنیا سے گذر جاؤں…
سو میں صرف اس وجہ سے نبی کہلاتا ہوں کہ عربی اور عبرانی زبان میں نبی کے یہ معنے ہیں کہ خدا سے الہام پاکر بکثرت پیشگوئی کرنے والا۔ اور بغیر کثرت کے یہ معنی تحقيق نہیں ہو سکتے جیساکہ صرف ایک پیسہ سے کوئی مالدار نہیں کہلا سکتا۔ سو خدا نے اپنے کلام کے ذریعہ سےبکثرت مجھے علم غیب عطا کیا ہے اور ہزارہا نشان میرے ہاتھ پر ظاہر کئے ہیں اور کر رہا ہے۔ ميں خود ستائی سے نہیں مگر خدا کے فضل اور اس کے وعدہ کی بناء پر کہتا ہوں کہ اگر تمام دنیا ایک طرف ہو اور ایک طرف صرف میں کھڑا کیا جاؤں اور کوئی ایسا امر پیش کیا جائے جس سے خدا کے بندے آزمائے جاتے ہیں تو مجھے اس مقابلہ ميں خدا غلبہ ديگا اور ہر ایک پہلو کے مقابلہ میں خدا میرے ساتھ ہوگا اور ہر ایک میدان میں وہ مجھے فتح دیگا۔ بس اسی بناء پر خدا نے میرا نام نبی رکھا ہے کہ اس زمانہ ميں کثرت مکالمہ مخاطب اللہ اور کثرت اطلاع برعلوم غیب صرف مجھے ہی عطا کی گئی ہے…
যে ভিত্তিতে আমি নিজেকে নবী বলি, তা শুধু এতটুকু যে, আমি খোদা তাআলার সাথে কথা বলার সৌভাগ্য লাভ করেছি এবং তিনি আমার সাথে অনেক কথা বলেন এবং আমার কথার উত্তর প্রদান করেন এবং অদৃশ্যের বহু বিষয় আমার নিকট প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ কালের ঐসকল ভেদ আমার নিকট উন্মোচন করেন। আর তার সাথে যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের বিশেষ নৈকট্য না হবে ততক্ষণ অন্যের নিকট তিনি ভেদ উন্মোচন করেন না। আর এসকল বিষয়ের আধিক্যের কারণে তিনি আমার নাম নবী রেখেছেন। অতএব খোদার নির্দেশ মোতাবেক আমি নবী। আর যদি আমি তা অস্বীকার করি তাহলে আমার পাপ হবে। আর যে অবস্থায় খোদা আমার নাম নবী রাখেন তো আমি কীরূপে তা অস্বীকার করতে পারি? আমি এর উপর অবিচল থাকব দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার আগ পর্যন্ত। …
অতএব আমি কেবল এই জন্য নবী দাবি করি যে, আরবী এবং ইবরানী ভাষায় নবীর অর্থ হল, খোদার পক্ষ থেকে ইলহামপ্রাপ্ত হয়ে খুব বেশি ভবিষ্যদ্বাণী প্রদানকারী। আধিক্য ব্যতীত এই অর্থ প্রযোজ্য হয় না। যেমন নাকি এক পয়সা থাকার দরুন কাউকে মালদার বলা হয় না। তো খোদা স্বীয় কালামের মাধ্যমে আমাকে অধিক পরিমাণে গায়েবের ইলম দান করেছেন। এবং হাজার হাজার নিদর্শন আমার হাতে প্রকাশ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। নিজের প্রশংসা করে নয়, কিন্তু খোদার অনুগ্রহ ও তার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বলছি, যদি গোটা পৃথিবী একদিকে থাকে আর একদিকে শুধু আমাকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় আর এমন কোনো বিষয় উপস্থিত করা হয়, যার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দাদের পরীক্ষা করা হয়- তাহলে তার মোকাবেলায় আল্লাহ আমাকে জয়ী করবেন আর প্রত্যেক বিষয়ে আল্লাহ আমার সাথে থাকবেন। প্রত্যেক ময়দানে তিনি আমাকে জয়ী করবেন। ব্যস, এই ভিত্তিতেই আল্লাহ আমার নাম নবী রেখেছেন যে, এই যমানায় আল্লাহর সাথে অধিক কথোপকথন ও সম্বোধন এবং গায়বের বিষয়ে অধিক খবরাখবর শুধু আমাকেই দেওয়া হয়েছে।…”
[বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : মজমুআ ইশতিহার (নতুন সংস্করণ) ২/৭২৫, ৭২৬, ইশতেহার নং ২৯২, তারিখ : ২৩ মে ১৯০৮ ঈ.; হাকীকতুন নবুওয়াহ, (যমীমা ২) লেখক, মির্যা মাহমুদ, অনওয়ারুল উলূম (মির্যা মাহমুদের রচনাসমগ্র) ২/৫৮০, ৫৮১]
উল্লেখ্য, এটা মির্যা কাদিয়ানীর মৃত্যুর ঠিক তিন দিন আগে ২৩ মে ১৯০৮ ঈ. তারিখের লেখা। আর তা প্রকাশিত হয়েছে ঠিক মৃত্যুর দিন ২৬ মে ১৯০৮ ঈ. তারিখে আখবারে আম পত্রিকায়। দ্রষ্টব্য : কাদিয়ানীদের প্রকাশিত পুস্তিকা ‘নবুয়ত ও খিলাফত’ (বাংলা), পৃ. ৭৬
মির্যা কাদিয়ানী তার এ চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নবী হওয়ার দাবি করেছে। সে নবুওতের পূর্ণাঙ্গ মর্মার্থ নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে বলছে-
ক. আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন তাই নবুওত দাবি করতে বাধ্য হয়েছে!
খ. নতুবা তার পাপ হবে!
গ. তাই কী আর করার, বাধ্য হয়েই তাকে নবুওত দাবি করতে হয়েছে!
ঘ. সে আর এ দাবি অস্বীকার করতে পারছে না।
ঙ. ফলে মৃত্যু অবধি কি না তাকে এ (কুফুরী) দাবির উপরই অবিচল থাকতে হবে- নাউযুবিল্লাহ।
চ. আল্লাহ তাআলা নাকি তাকে এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, পুরো দুনিয়ার মোকাবেলায় তাকে জয়ী করবেন। এজন্য তাকে নবী বলা হয়েছে।
ছ. আর এভাবে নবুওত নাকি শুধু তাকেই দেওয়া হয়েছে।
এটা যে কত জঘন্য কিসিমের কুফর, তা হয়ত আর খোলাসা করে বলার প্রয়োজন নেই।
প্রিয় পাঠক! উল্লিখিত উদ্ধৃতিগুলোতে অস্পষ্টতার কিছু নেই। কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই যে স্পষ্ট ভাষায় মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নবুওত ও রিসালাত এবং নবী ও রাসূল হবার দাবি করেছে এখানে তারই কতিপয় উদ্ধৃতি প্রদত্ত হল।
প্রকাশ থাকে যে, মির্যা কাদিয়ানী মৃত্যু অবধি যে বিশ্বাস পোষণ করে গিয়েছে তার সম্প্রদায়ের বিশ্বাসও তাই; এর ব্যতিক্রম নয়।
কাদিয়ানীদের দ্বিতীয় খলীফা মির্যাপুত্র মির্যা বশীরুদ্দীন মাহমুদ ‘হাকীকতুন নবুওয়াহ’ নামে স্বতন্ত্র দীর্ঘ পুস্তক রচনা করেছে, তার বাবা যে নবী হবার দাবি করে গিয়েছে সেকথা প্রমাণের জন্যে। সেখানে সে বহুভাবে মির্যা কাদিয়ানী যে তাদের নবী এবং তিনি যে প্রকৃত অর্থেই নবী ও রাসূল হবার দাবি করেছেন- এ বিষয়টি প্রমাণ করেছে।
‘হযরত মসীহে মাওঊদ সত্যিই আল্লাহর নবী ছিলেন’(!)
তথাপি এ মর্মে আরো একটি উদ্ধৃতি লক্ষ্য করুন। কাদিয়ানী সম্প্রদায় তাদের গুরু মির্যা কাদিয়ানীর প্রতি কী বিশ্বাস পোষণ করে- তা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে এই উদ্ধৃতিতে।
কাদিয়ান থেকে প্রকাশিত আহমদীদের ‘আলফযল’ পত্রিকায়-
حضرت مسیح موعود واقعی نبی اللہ تھے
(হযরত মসীহে মাওঊদ সত্যিই আল্লাহর নবী ছিলেন) শিরোনামে মির্যা কাদিয়ানীর ব্যাপারে তাদের আকীদা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়-
حضرت مسیح موعود نے اپنے آپ کو کھلے طور پر نبی اللہ اور رسول اللہ پیش کیا ہے۔ اور اپنے آپ کو زمرہ انبیاء ومرسلین میں شامل فرمایا ہے۔ اور جن آیات قرآنیہ کو اپنے دعوے میں پیش کیا ہے۔ ان میں صریح طور سے الفاظ “رسول” یا “رسلہ” کےموجود ہیں۔ جنکا حضور نے اپنے آپکو مصداق ٹھہرایا ہے۔ پس آیات قرآنیہ بینہ کے لفظ “رسول” کا اپنے آپ کو مصداق ٹھہرانا صاف اور صریح اس امر کی بین دلیل ہے۔کہ حضرت مسیح موعودمن حیث النبوّت انہی معنوں میں نبی اللہ اور رسول اللہ تھے جن معنوں میں ان آیات سے دیگر انبیاء سابقین مراد لئےجاتے ہیں۔ چنانچہ تحفہ گولڑویہ میں حضرۃ مسیح موعود فرماتے ہیں۔
“آیت هو الذی ارسل رسوله بالهدی آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم کے حق میں ہے اورپہر یہی آئیت مسیح موعود کے حق میں بھی ہے …..۔اور رسول سے اس جگہ آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم بہی مراد ہیں۔ اور مسیح موعود بہی مراد ہے”
اس حوالہ سے حضرت مسیح موعود کا حقیقی معنوں میں نبی اللہ ہونا محقق ہے۔ کیونکہ آیت مذکورہ بالاکے لفظ رسول سے خود مسیح موعود نے اپنے آپ کو ان ہی معنوں میں مراد لیا ہے۔ جن معنوں میں کہ حضرت نبی کریم رسول اللہ ہیں۔ جس سے صاف اور صریح ثابت ہوگیا۔ کہ حضرت مسیح موعود واقعی نبی اللہ تھے۔ اور زمرۂ انبیاء اور مرسلین میں داخل ہیں۔ …
الغرض محولہ بالا نص صریح کے طور پر یہ امر ثابت کررہا ہے۔ کہ حضرت مسیح موعود من حیث النبوت ورسالت حقیقی معنوں کےانبیاء میں شامل ہیں۔ …
مندرجہ بالا حوالجات کے رو سے حضرت اقدس مسیح موعود خدا تعالے کے نبی اور رسول بنتے ہیں۔ اور من حیث نبوت ورسالت ویسے ہی نبی اور رسول ہیں۔ جیسے کہ سابقہ زمانہ میں گذرے ہیں۔ یہ تو قرآنی آیات کا ذکرہے۔اب ہم دیکھنا چاہتے ہیں۔ کہ حضرت اقدس مسیح موعود نے اپنی نسبت مطلق نبی اور رسول کا لفظ بھی استعمال کیا ہے۔ اور اپنے آپ کو زمرہ انبیاء میں شمار فرمایا ہے۔…
پس کیا یہ حوالجات ثابت نہیں کرتے۔ کہ حضرت اقدس مسیح موعود واقعی خدا کے برگزیدہ نبی ہیں۔ اور آپ کے لئے نبی اور رسول کا لفظ استعمال کرنا اور آپکو زمرہ انبیاء میں داخل شدہ تصور کرنا نہ صرف جائز بلکہ فرض ہے جس کے انکار سے خدا تعالے کے کلام کی تکذیب لازم آتی ہے۔ چنانچہ حضرت مسیح موعود فرماتے ہیں۔
“الہام جری اللہ فی حلل الانبیاء جس کا ترجمہ ہے۔ خدا کا رسول نبیوں کے لباس میں۔ اس الہام میں میرا نام رسول بھی رکھا گیا ہے۔ اور نبی بھی۔ پس جس شخص کے خود خدا نے یہ نام رکھے ہوں۔ اس کو عوام میں سے سمجھنا کمال درجہ کی شوخی ہے۔ (ایام الصلح ص ৭৫ )…
پس ان اقتباس سے یہ امر ثابت ہوگیا ۔ کہ حضرت مسیح موعود واقعی خدا کے نبی تھے۔ اور یقینا خدا کے نبی تھے۔ اور آپکا دعوی نبوت ورسالت انبیاء سابقین کے دعاوی سے بجز واسطہ وبلا واسطہ نبوت کے ہرگز ہرگز کوئی مغائرت نہیں رکھتا۔ آپ لاریب نبی اور رسول تھے۔ ہاں آپ آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم کی روحانی تعلیم سے نبی تھے۔ اس لئے آپ آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم کی طرح بعض انبیاء سابقین سے افضل ہوئے۔ اور حضرت نبی کریم کے امتی بھی کہلائے۔ اور بجز شریعت بریدہ یا ترمیم و تنسیخ احکامات شریعت محمدیہ باقی تمام لوازمات نبوت منجانب اللہ آپ کے ساتھ تھے۔ والسلام
(خاکسار محمد سعید احمدی از لاہور)
হযরত মসীহে মাওঊদ২১ প্রকাশ্যভাবে নিজেকে আল্লাহর নবী এবং আল্লাহর রাসূল বলে পেশ করেছেন এবং নিজেকে তিনি নবীগণ ও রাসূলগণের দলে শামিল করেছেন। আর যেসকল কুরআনী আয়াতকে নিজের দাবির ক্ষেত্রে পেশ করেছেন তাতে স্পষ্টভাবে ‘রসূল’ ও ‘রসূলুহু’ জাতীয় শব্দ বিদ্যমান রয়েছে। ‘হুযুর’ নিজেকে নিজে তার প্রতিপাদ্য হিসাবে সাব্যস্ত করেছেন। অতএব কুরআনী স্পষ্ট আয়াতসমূহে উল্লেখিত রাসূল শব্দের উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে উল্লেখ করা- এ বিষয়টির স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য দলীল যে, নবুওতের বিবেচনায় হযরত মসীহে মাওঊদ ওই অর্থেই আল্লাহর নবী ও আল্লাহর রাসূল ছিলেন, যেই অর্থে এসকল আয়াতে পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীগণ উদ্দিষ্ট হয়ে থাকেন।
তোহফায়ে গোলড়বিয়াতে হযরত মসীহে মাওঊদ বলেন-
“কুরআনের আয়াত-
هو الذی ارسل رسوله بالهدی.
(তিনি সেই সত্তা, যিনি তার রাসূলকে প্রেরণ করেছেন হেদায়েত দিয়ে…) আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তারপর এই আয়াতই মসীহে মাওঊদের ব্যাপারেও প্রযোজ্য। … … এই জায়গায় রাসূল বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও উদ্দেশ্য এবং মসীহে মাওঊদও উদ্দেশ্য।”
হযরত মসীহে মওঊদ প্রকৃত অর্থে নবী হবার বিষয়টি এই উদ্ধৃতি থেকে সুনিশ্চিত। কেননা উপরে উল্লেখিত রাসূল শব্দ থেকে মসীহে মাওঊদ নিজেকে ঐ অর্থেই গ্রহণ করেছেন, যেই অর্থে হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। এতে স্পষ্ট এবং পরিষ্কার হয়ে গেল যে, হযরত মসীহে মাওঊদ প্রকৃত অর্থেই আল্লাহর নবী ছিলেন এবং আম্বিয়া ও মুরসালীনের দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।…
মোটকথা, উল্লিখিত উদ্ধৃতি সুস্পষ্ট পাঠের মতো এ বিষয়টি প্রমাণ করছে যে, হযরত মাসীহে মাওউদ নবুওত ও রিসালাতের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত অর্থেই নবীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।…
(মির্যা কাদিয়ানীর কয়েকটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করার পর বলে) উপরে উল্লেখিত উদ্ধৃতিগুলোর আলোকে ‘হযরতে আকদাস’ মসীহে মাওউদ খোদা তাআলার নবী ও রাসূল সাব্যস্ত হন। এবং নবুওত ও রিসালাতের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি তেমনই নবী ও রাসূল, যেমনটি পূর্ববর্তী যমানায় অতিবাহিত হয়েছে। এ তো গেল কুরআনের আয়াতের বর্ণনা। এখন আমরা দেখব, হযরতে আকদাস মসীহে মাওঊদ নিজের ব্যাপারে নবী ও রাসূল শব্দও ব্যবহার করেছেন এবং নিজেকে নবীদের জামাতে গণ্য করেছেন। …
(মির্যা কাদিয়ানীর নবুওত দাবি সংক্রান্ত কয়েকটি বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলে) অতএব এই উদ্ধৃতিগুলো কি একথা প্রমাণ করে না যে, হযরতে আকদাস মসীহে মাওঊদ বাস্তবিকই আল্লাহর প্রেরিত নবী ছিলেন। তার জন্য নবী ও রাসূল শব্দ ব্যবহার করা এবং তাকে নবীগণের জামাতের অন্তর্ভুক্ত মনে করা শুধু জায়েযই নয়; বরং ফরয। যার অস্বীকৃতি আল্লাহ তাআলার কালামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শামিল।
হযরত মসীহে মাওঊদ বলেন, ইলহাম-
جرى الله فى حلل الانبياء
যার তরজমা হল, আল্লাহর রাসূল নবীদের পোশাকে। এই ইলহামে আমার নাম রাসূলও রাখা হয়েছে এবং নবীও। অতএব স্বয়ং খোদা যার জন্য এই নাম রাখেন তাকে সাধারণ মানুষ মনে করা জঘন্য বেয়াদবি। (আইয়ামুস সুলাহ, পৃ ৭৫) …
অতএব এ উদ্ধৃতিগুলো থেকে এ বিষয়টি প্রমাণিত হল যে, হযরত মসীহে মাওঊদ বাস্তবেই আল্লাহর নবী ছিলেন। আর তিনি যে নবুওত ও রিসালাত দাবি করেছেন তা পূর্ববর্তী নবীগণের দাবি-দাওয়া থেকে কখনই কখনই কোনো বৈপরীত্য ধারণ করে না, মাধ্যম এবং সরাসরি নবুওত লাভ করা ব্যতীত।২২ তিনি নিঃসন্দেহে নবী এবং রাসূল ছিলেন। হাঁ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহানী তালীমের মাধ্যমে নবী হয়েছিলেন।২৩ এজন্য তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো পূর্ববর্তী কোনো কোনো নবী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ছিলেন।২৪ এবং তাকে হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতীও বলা হয়।২৫ আর শরীয়ত (আনা) এবং শরীয়তে মুহাম্মদিয়ার বিধি বিধান রহিত করা এবং কমবেশি করা ব্যতীত২৬ আল্লাহর পক্ষ থেকে নবুওতের সকল বৈশিষ্ট্য তার মাঝে বিদ্যমান ছিল। ওয়াসসালাম।
(খাকসারে মুহাম্মাদ সাঈদ আহমদী, লাহোর) -কাদিয়ান থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘আলফযল’, তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৪ ঈসায়ী, পৃ. ৫, ৬