কাদিয়ানীরা কাফের কেনো?

মির্যা কাদিয়ানীকে নবী বিশ্বাস করা, খতমে নবুওয়ত আকীদার উপর্যুক্ত বিষয়গুলো অস্বীকার করা ছাড়াও কাদিয়ানীদের কুফুরি আকীদা অগণিত। সেগুলো থেকে নমুনাস্বরূপ কয়েকটি জঘণ্য আকীদা উপস্থাপন করা হল। যাতে সাধারণ মুসলমান তাদের সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে পারেন এবং তাদের প্রতারণা থেকে নিজের ঈমান হেফাজত করতে পারেন। (এ সকল কুফুরি বিশ্বাস কাদিয়ানীদের নিজস্ব বইপুস্তক থেকে নেওয়া হয়েছে। সাথে রেফারেন্সও দেওয়া হয়েছে। কারো দেখার আগ্রহ থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের নিজস্ব বই দেখে নিশ্চিত হতে পারেন।)

কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ার প্রথম কারণ: মির্যা কাদিয়ানীর নবী দাবি!

কাদিয়ানিদের নবী ভণ্ড- মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির বক্তব্য লক্ষ্য করুন:
ক) “আমার নবী ও রাসূল হওয়া আমি কিরূপে অস্বীকার করতে পারি! যখন খোদা তায়ালা আমাকে নবী ও রাসূল আখ্যা দিয়েছেন, তখন আমি কিরূপে তা প্রত্যাখ্যান করতে পারি।” রেফারেন্স: একটি ভুল সংশোধন পৃ: ৮
খ) “আমি ঐ খোদার কছম করে বলছি যার হাতে আমার জীবন, তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন এবং তিনিই আমার নাম ‘নবী’ রেখেছেন।” রেফারেন্স: (তাতিম্মায়ে হাকিকতুল ওহী) রূহানী খাযায়েন খ- ২২ পৃ: ৫০৩
গ) “আল্লাহর আদেশ মোতাবেক আমি একজন নবী।” রেফারেন্স: নবুয়ত ও খিলাফত পৃ:৭৬
ঘ) প্রত্যেক আহমদীর বিশ্বাস: “প্রত্যেক আহমদী এ বিশ্বাসে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত যে সেই পবিত্র, মহৎ ধর্মভীরু ব্যক্তিত্ব যাঁকে অনেকে মির্যা কাদিয়ানী বলে থাকে, তিনি আল্লাহর মনোনীত একজন নবী (বদর, জুন১৮, ১৯০৮, পৃষ্ঠা ১১)।” রেফারেন্স: নবুয়ত ও খিলাফত পৃ:৭৭

কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ার দ্বিতীয় কারণ: মির্যা কাদিয়ানীর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ হওয়ার দাবি!

কুরআনের সুরা ফাতহের ২৯ নং আয়াতকে মির্যা কাদিয়ানী নিজের ওহী দাবি করে বলছে:

“মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহে ওয়াল্লাযীনা মাআহু আশিদ্দাউ আলাল কুফ্ফারে রুহামাউ বাইনাহুম।”

এ ঐশী বাণীতে আমার নাম মুহাম্মদ রাখা হয়েছে এবং রসূলও। রেফারেন্স: একটি ভুল সংশোধন পৃ: ৪

কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ার তৃতীয় কারণ:

কাদিয়ানীদের কালিমার অর্থ মুসলমানদের কালিমা থেকে আলাদা।
যখন কোন মুসলমান কালিমায়ে তায়্যেবা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’ পাঠ করে তখন কালিমার ২য় অংশ ‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’ দ্বারা মুসলমানদের উদ্দেশ্য হয় শেষনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পক্ষান্তরে কাদিয়ানিরা উপর্যুক্ত বিশ্বাসের কারণে কালিমার ঐ অংশে উদ্দেশ্য করে তাদের নবী মির্যা কাদিয়ানীকে। কেননা তার দাবি হল সে নিজেই মুহাম্মদ এবং তার দাবি মতে সে নিজে মোহাম্মাদ হওয়ার কারণেই তার নবুওয়ত লাভ হয়েছে! নাঊযুবিল্লাহ! কাদিয়ানীর বক্তব্য- “মোটকথা আমি মুহাম্মদ ও আহমদ (সঃ) হওয়ার কারণে আমার নবুওয়ত ও রেসালত লাভ হয়েছে।” রেফারেন্স: একটি ভুল সংশোধন পৃ: ৫
কাদিয়ানীদের দাবি এ কারণেই তাদের আলাদা কালিমার দরকার নেই। দেখুন মির্যা কাদিয়ানীর ছেলে বশির আহমদ এমএ লিখেছে “প্রতিশ্রুত মাসীহ (মির্যা কাদিয়ানী) স্বয়ং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ। যিনি ইসলাম প্রচারের জন্য দ্বিতীয়বার এ পৃথিবীতে এসেছেন। এ জন্য আমাদের নতুন কোনো কালিমার প্রয়োজন নেই।” রেফারেন্স: কালিমাতুল ফসল পৃ. ১৫৮/১৪

কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ার চতুর্থ কারণ: মির্যা গোলাম কাদিয়ানী নাকি শেষনবীর চেয়েও বেশি মর্যাদার অধিকারী! নাঊযুবিল্লাহ!!

মির্যা কাদিয়ানির বক্তব্য লক্ষ করুন: “বরং সত্য কথা হল: পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে (নবীজির সময়ের চেয়ে) বর্তমান সময়ে তার রূহানিয়্যত (কাদিয়ানীর রূহানিয়্যত) বেশী মজবুত, শক্তিশালী এবং পূর্ণাঙ্গ।” রেফারেন্স: রুহানি খাজায়েন খ: ১৬, পৃ: ২৭১-২৭২

কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ার পঞ্চম কারণ: হযরত ঈসা (আ:) কে মৃত সাব্যস্ত করা

মির্যা কাদিয়ানীর দাবি হলো আল্লাহর নবী হযরত ঈসা (আ:) মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বেঁচে নেই। সুতারাং তিনি দুনিয়াতে আর কখনো আসবেন না। বরং মির্যা কাদিয়ানী নিজেই ঈসা মাসীহরূপে দুনিয়াতে এসেছে। ঈসা (আ.) এর মৃত্যু প্রমাণ করতে গিয়ে কাদিয়ানীরা কোরআন শরিফের ৩০ টি আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছে। রেফারেন্স- রুহানী খাযায়েন ১৯/৭৫, ২১/৪০৬-৪০৭, ২২/৬৬০; বাংলা পুস্তিকা- ঈসা (আ.) এর মৃত্যুতেই ইসলামের জীবন।
অথচ আল্লাহ তাআলা কোরআনে কারিমে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন-

“তারা (ইহুদিরা) তাঁকে হত্যা করেনি এবং শূলেও চড়াতে পারেনি; বরং তাদের বিভ্রম হয়েছিলো। প্রকৃতপক্ষে যারা এ সর্ম্পকে মতভেদ করেছে তারা এ বিষয়ে সংশয়ে নিপতিত এবং এ বিষয়ে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের প্রকৃত কোনও জ্ঞান ছিলো না । সত্য কথা হচ্ছে তারা ঈসাকে হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। বস্তুত আল্লাহ মহা ক্ষমতার অধিকারী, অতিপ্রজ্ঞাবান।” সূরা আন নিসা ১৫৭, ১৫৮

হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে- হযরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা: এরশাদ করেন

“কেমন হবে তখন যখন মরিয়মের পুত্র (ঈসা ইবনে মরিয়ম) তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন আর তোমাদের ইমাম তোমাদেরই একজন হবে!” বুখারি- হাদিস নং ৩৪৪৯

অতএব, হযরত ঈসা আ: কে মৃত সাব্যস্ত করা, তার পুনরায় অবতরণকে অস্বীকার করা এবং কোরআনের আয়াত ও অসংখ্য হাদিসের অপব্যাখ্যা করে মনগড়া মতবাদ আবিস্কার করার কারণে কাদিয়ানীরা কাফের।