কারামত, কাশফ, এলহাম ও পীর বুযুর্গ বিষয়ে আক্বীদা
আল্লাহর প্রিয় বান্দাকে বুযুর্গ এবং অলী বলা হয়। আর শরী`আতের বরখেলাফ চলে কেউ কখনো আল্লাহর প্রিয় বা অলী বা বুযুর্গ হতে পারে না। অতএব যারা শরী‘আত বিরোধী কাজ করে যেমন-নামায পড়ে না, রোযা রাখে না, গাজা বা নেশা করে, বেগানা মহিলাকে স্পর্শ করে বা দেখে, গান বাদ্য ইত্যাদি করে তারা কখনো পীর বুযুর্গ নয়। তারা যদি অলৌকিক কিছু দেখায় তা হলে সেটা কারামত নয়। বরং বুঝতে হবে সেটা জাদু বা এ ধরণের কিছুটা একটা হয়ে থাকবে। আর জাদু ফাসিকদের থেকেই প্রকাশ হয়।
যেহেতু শয়তান বাতাসে ঊর্ধ্বজগতে ভ্রমণ করতে পারে এ জন্য অনেক সময় শয়তান এসব লোকদের নিকট গায়েব জগতের অনেক খবরাখবর জানিয়ে দেয়। এতে করে এসব শুনে মূর্খ লোকেরা তাদের ভক্ত হয়ে যায় এবং এভাবেই তারা বিভ্রান্তির শিকার হয়ে পড়ে। এসব দেখে তাদের ধোঁকায় পড়া যাবে না। এ সকল লোকদের কাছে গেলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় আছে।
কাশফ ও এলহাম শরীআতের মুতাবিক হলে, তা গ্রহণযোগ্য হবে। অন্যথায় তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
কোন বুযুর্গ বা পীর বিষয়ে এই আক্বীদা রাখা যে, তিনি সব সময়ে আমাদের অবস্থা জানেন, এটা সম্পূর্ণ শিরক। কোন পীর, বুযুর্গের হাতে বাইআত হলে তিনি নাজাতের ব্যবস্থা করবেন, পুলসিরাত পার করে দিবেন, এ ধরণের আক্বীদা রাখাও গুমরাহী বরং পীর বুযুর্গ কেবল ঈমান ও আমলের পথ দেখাবেন। আর এই ঈমান ও আমলই হবে নাজাতের ওসিলা।
কোনো পীর বুযুর্গের মর্যাদা চাই সে যত বড় হোক কস্মিনকালেও কোনো নবী বা সাহাবী থেকে বেশি বা তাদের সমানও হতে পারবে না।