الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى.
আমাদের অনেক ভাইয়ের মনেই প্রশ্ন, পৃথিবীতে কাদিয়ানীদের মতো অমুসলিম তো আরও কত আছে। ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু অমুক তমুক আরও কত। কিন্তু কাদিয়ানীদের প্রতিহত করার জন্য যেমন স্বতন্ত্র সংগঠন ও দল রয়েছে অন্যান্য কাফেরদের প্রতিহত করার জন্য তো এমন স্বতন্ত্র ও বৈশ্বিক কোনো সংগঠন নেই। তাহলে হযরত আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহ. থেকে শাইখুল ইসলাম মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানূরী রাহ. পর্যন্ত এবং আমীরে শরীয়ত সায়্যিদ আতাউল্লাহ শাহ বুখারী রাহ. থেকে হযরত মাওলানা মুফতী মাহমূদ রাহ. পর্যন্ত সকল আকাবির কাদিয়ানীদের বিষয়ে কেন এত গুরুত্ব দিলেন? কাদিয়ানী এবং অন্যান্য অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য কী?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটা উদাহরণ দিচ্ছি- আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, শরীয়তে মদ নিষিদ্ধ। মদ পান করা, মদ বানানো, বিক্রি করা সবই হারাম। আপনারা এটাও জানেন, শরীয়তে শূকর হারাম এবং নাপাক। শূকরের গোশত বিক্রি করা, লেনদেন করা, খাওয়া অকাট্যভাবে হারাম। এখন এক ব্যক্তি কেবল মদ বিক্রি করে, সেও অপরাধী। আবার আরেকজন মদের বোতলে যমযমের লেবেল লাগিয়ে মদকে যমযম পানি বলে বিক্রি করে, সেও অপরাধী। কিন্তু দুই অপরাধী কি সমান? তেমনিভাবে এক ব্যক্তি শূকরের গোশত বিক্রি করে এবং স্পষ্ট বলে দেয়, এটা শূকরের গোশত, যার ইচ্ছা নেবে, যার ইচ্ছা নেবে না। আরেক ব্যক্তি শূকর ও কুকুরের গোশত ছাগলের গোশত বলে বিক্রি করে। এরা উভয়েই অপরাধী, কিন্তু উভয়ের অপরাধের ধরনের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। একজন হারামকে হারাম বলেই বিক্রি করে। আরেকজন সেই হারামকে হালাল বলে বিক্রি করে।
যেই পার্থক্য শূকরের গোশতকে শূকরের গোশত বলে বিক্রেতা এবং শূকরের গোশতকে ছাগল বা দুম্বার গোশত বলে বিক্রেতার মাঝে, ঠিক একই পার্থক্য ইহুদী-খ্রিস্টান-হিন্দু এবং কাদিয়ানীদের মধ্যে।
কুফর সর্বাবস্থায়ই কুফর। তবে অন্যান্য কাফেররা তাদের কুফরকে ইসলাম বলে না; কিন্তু কাদিয়ানীরা তাদের কুফরকে ইসলাম বলে মানুষকে ধোঁকা দেয়।