কাফের তিন প্রকার : এক. যারা প্রকাশ্য কাফের। দুই. যারা ভেতরে ভেতরে কাফের, তবে প্রকাশ্যে নিজেকে মুসলমান বলে। তিন. যারা নিজের কুফরকে ইসলাম প্রমাণ করার চেষ্টা করে।
প্রথম প্রকারের কাফের তো সুস্পষ্ট কাফের। তাতে ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু সকলেই অন্তর্ভুক্ত। মক্কার মুশরিকরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এরা প্রকাশ্য এবং সুস্পষ্ট কাফের।
দ্বিতীয় প্রকারকে মুনাফিক বলে। যারা মুখে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, কিন্তু মনে কুফর লালন করে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন-
اِذَا جَآءَكَ الْمُنٰفِقُوْنَ قَالُوْا نَشْهَدُ اِنَّكَ لَرَسُوْلُ اللهِ ۘ وَ اللهُ یَعْلَمُ اِنَّكَ لَرَسُوْلُهٗ وَ اللهُ یَشْهَدُ اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ لَكٰذِبُوْنَ.
অর্থাৎ মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলে, আমরা সাক্ষ্য দেই, আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তাআলা জানেন, আপনি বাস্তবিকই আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ সাক্ষ্য দেন, মুনাফিকরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। -সূরা মুনাফিকূন (৬৩) : ১
মুনাফিকদের কুফর সাধারণ কাফেরদের চে’ও বড়। কেননা তারা কুফর ও মিথ্যাকে মিশ্রণ করে। তারা কালিমা তায়্যিবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ পড়ে কুফর ও মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে। এই মুনাফিকদের চে’ও ওই তৃতীয় প্রকারের কাফেররা বড় অপরাধী, যারা নিজেদের কুফরকে ইসলাম বলে। তাদের আকীদা সুস্পষ্ট কুফুরী। অথচ তারা একে ইসলাম বলে উপস্থাপন করে। শরীয়তের পরিভাষায় এদেরকে ‘যিনদীক’ বলা হয়।
সারকথা হল, যারা ভেতরে বাইরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করে অথবা গোপনে কুফর লালন করে, তারা কাফের। যারা মনের মধ্যে কুফর গোপন করে আর মুখে মিছামিছি কালিমা পড়ে তারা মুনাফিক। যারা নিজেদের কুফরের ওপর ইসলামের রঙ চড়িয়ে নিজেদের কুফরকে ইসলাম প্রমাণ করার চেষ্টা করে তারা যিনদীক।