যেহেতু এ বিষয়টা সুপ্রমাণিত যে, কাদিয়ানী মতবাদ মূলত বৃটিশ সরকার কর্তৃক সৃষ্ট। যে মতবাদের মূল ভিত্তিই হচ্ছে, ভারতবর্ষে মুসলমানদেরকে বৃটিশ সরকারের গোলামী ও আনুগত্যের প্রতি উৎসাহিত করা। মির্যা কাদিয়ানী যথাযথভাবেই তার উপর আরোপিত এ গুরুদায়িত্ব (!) পালনে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। একপর্যায়ে ইংরেজদেরকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে বলেছে যে, সে বৃটিশ সরকারের তাবিজস্বরূপ। তার বিদ্যমানতায় তাদের কোনো ধরনের ক্ষতি ও দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হবে না।
মির্যা কাদিয়ানী তার অনুসারীদেরকে পরামর্শ দিতে গিয়ে এ কথাগুলোই বলেছে। লক্ষ্য করুন-
“এ সরকার সকল ক্ষেত্রে তোমাদের সাহায্যে দণ্ডায়মান। তোমাদের বন্ধুবান্ধব ও বাসস্থানের ব্যাপারেও তারা কত চমৎকার আচরণই না করেছেন এবং প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তারা তোমাদের আশ্রয়স্থল ও নিরাপত্তাস্থল। এখন তোমাদের উপর এই অনুগ্রহের হক পাওনা হয়ে আছে। …অতএব, এই সরকারের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা এবং তাদের স্মরণ ও প্রশংসা করার ক্ষেত্রে বোবা ও বেহুঁশ হয়ে থেকো না। কেননা, অনুগ্রহের বদলা অনুগ্রহ দিয়েই দিতে হয়। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে শিথিলতা প্রদর্শন অকৃতজ্ঞতার শামিল। আমি আল্লাহ তাআলার নামে কসম করে বলছি, এই সরকার তোমাদের জন্য নিরাপত্তাদানকারী এক মহা তাবিজ, যার উপস্থিতিতে অন্য কোনো সাহায্যকারী আমাদের দরকার নেই।” -মাজমুয়ায়ে ইশতেহারাত ২/৫৪৩-৫৪৪ নতুন সংস্করণ, ৩/৪৫৮-৪৫৯ পুরাতন সংস্করণ
আরও লিখেছে-
“এ সরকারের মাধ্যমে আমরা যে কতটা শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করেছি, তা প্রকাশ করার মতো উপযুক্ত শব্দভাণ্ডার আমাদের আয়ত্বে নেই। আমরা এই দুআই করতে পারি যে, আল্লাহ তাআলা এই অনুগ্রহশীল সরকারকে উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন যেমন তারা আমাদের প্রতি মঙ্গল করেছে।” -মাজমুয়ায়ে ইশতেহারাত ২/১৯১ নতুন সংস্করণ, ৩/১২ পুরাতন সংস্করণ
আরও লিখেছে-
“অথচ আমি জানি, আল্লাহ তাআলা তার বিশেষ করুণায় এই সরকারকে আমার ও আমার জামাতের আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন। এই সরকারের অধীনে আমাদের যে নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে তা আমরা মক্কা-মদীনা বা রোমের শাসনাধীন কন্স্ট্যান্টিনোপলেও পেতাম না। -তিরইয়াকুল কুলুব, রূহানী খাযায়েন ১৫/১৫৬
আজও কাদিয়ানী সম্প্রদায় নাড়ির টানে লন্ডনে গিয়ে চির হিতৈষী বৃটিশদের ‘রহমতের ছায়াতলে’ আশ্রয় নিয়েছে এবং সেখানেই নিজেদের হেডকোয়ার্টার স্থাপন করেছে।
সেখান থেকে তারা যতটা নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধকতা মুক্ত হয়ে নিজেদের কুফুরী মতবাদ পরিচালনা করতে পারবে, জানা কথা বিশ্বের কোনো মুসলিম ভূখণ্ডে বসে তা সম্ভব হবে না। যা মির্যা কাদিয়ানী নিজেই স্বীকার করেছে যে, আমি ইংরেজদের ছায়াতলে যে স্বাধীনতা ও বাধাহীনতার সাথে আমার কার্যক্রম চালাচ্ছি তা মক্কা মদীনাতেও সম্ভব হবে না। তোহফায়ে কায়সারিয়া, রূহানী খাযায়েন ১২/২৮৩-২৮৪
প্রথম দিকে তাদের মূল কেন্দ্র ছিল ভারতের কাদিয়ানে। পরবর্তীতে দেশ ভাগ হয়ে যাওয়ার পরে তারা পাকিস্তানে গিয়ে আস্তানা গাড়ে এবং চনাব নদীর তীরে বিশাল এক এলাকা লিজ নিয়ে সে এলাকার নামকরণ করে রবওয়া। সেই রবওয়াই ছিল ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তাদের মূল কেন্দ্র। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে তাদের চতুর্থ খলীফা মির্যা তাহের লন্ডনে গিয়ে সেখানে মূল কেন্দ্র স্থাপন করে।
তাদের তথাকথিত খলীফা সেই লন্ডন থেকেই সারা বিশ্বের কাদিয়ানীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়, এমনকি জুমার খুতবা পর্যন্ত দেয়। সেই খুতবা অনুসরণ করেই আমাদের দেশের কাদিয়ানীরা জুমার নামায আদায় করে।