যাদের হাত লক্ষ মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, যারা ভারতবর্ষের মুসলমানদের পশু ছাড়া অন্য কিছু গণ্য করত না, সেই বৃটিশ সরকারের মহারাণী ভিক্টোরিয়া, যার নামে সদর ঘাটের ঐ পার্কটির নামকরণ করা হয়, যার গাছে গাছে ১৮৫৭ সালে বহু মুসলিম বিপ্লবীর লাশ ঝুলেছিল, সেই রাণীর উদ্দেশ্যে মির্যা কাদিয়ানী যেভাবে কৃতজ্ঞতা, অভিনন্দন, আন্তরিক ভালবাসা আর আসমানী সাহায্যের প্রার্থনা করে করে মুখে ফেনা তুলেছিল, তা ঈমানদার মুসলমানের হৃদয়ে চরম ঘৃণা ও ধিক্কার সৃষ্টি না করে পারে না।
এ বিষয়ে তার বক্তব্যটি লক্ষ করুন-
“ঐ খোদার শুকরিয়া, যিনি আমাদেরকে আজকের এই মহাখুশীর দিনটি দেখার তাওফীক দিয়েছেন যে, আমরা আমাদের মহান সম্রাজ্ঞী, ইংল্যান্ড ও হিন্দুস্তানের (ভারতের) অধিপতি মহারাণীর শত বার্ষিকী জুবিলি দেখতে পেয়েছি। আজকের এই দিনটি পেয়ে আমাদের অন্তরে যে আনন্দস্রোত বয়ে যাচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। আমাদের কল্যাণকামী বরকতময় সম্রাজ্ঞীকে আমাদের পক্ষ থেকে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। আল্লাহ সম্রাজ্ঞী মহারাণীকে সর্বদা সুখে-শান্তিতে রাখুন। -তোহফায়ে কায়সারিয়া, রূহানী খাযায়েন-১২/২৫৪
রাণী ভিক্টোরিয়াকে উদ্দেশ্য করে মির্যা কাদিয়ানী আরও লিখেছে-
“ভারতবর্ষের অধিপতি হে মহান সম্রাজ্ঞী, আল্লাহ আপনাকে সৌভাগ্য ও আনন্দপূর্ণ দীর্ঘায়ু দান করুন। আপনার শাসনামল কতই না বরকতময় যে, খোদার আসমানী সাহায্য আপনার মিশনকে শক্তিশালী করছে। প্রজাবর্গের প্রতি আপনার সহানুভূতিশীলতা ও সদিচ্ছার পথকে ফিরিশতাগণ সুগম করছে। আপনার সুবিচারের মেঘমালা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। যাতে গোটা সাম্রাজ্যকে ফুলে ফুলে সুশোভিত করে দেয়। নিকৃষ্ট সে, যে আপনার শাসনামলের মুল্যায়ন করে না। আর অসভ্য সে, যে আপনার অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞ। আর জানা কথা যে, মনের টান শুধু মন দিয়েই অনুভব করা যায়। তাই আপনাকে যে আমি মন দিয়ে ভালবাসি এবং বিশেষভাবে আমার অন্তকরণে আপনার প্রতি রয়েছে যে অগাধ ভক্তি ও শ্রদ্ধা- সেকথা মুখ দিয়ে প্রকাশ করার প্রয়োজন বোধ করি না। আপনার জন্য আমাদের দিনরাতের দুআ জলস্রোতের ন্যায় অব্যাহত আছে। আমরা রাজনৈতিক চাপের কারণে আপনার অনুগত হইনি, বরং আপনার বিভিন্ন ধরনের গুণ-বৈশিষ্ট আমাদের অন্তরকে আপনার প্রতি আকর্ষিত করেছে।
ভারতবর্ষের অধিপতি হে বরকতময় (?) সম্রাজ্ঞী, আপনার এই সম্মান ও সুখ্যাতি সুদীর্ঘ হোক। খোদার দৃষ্টি ঐ রাজ্যের উপর রয়েছে, যার উপর আপনার দৃষ্টি আছে। আর খোদার রহমতের হাত সে প্রজাবর্গের উপর আছে, যাদের উপর আপনার হাত রয়েছে। -সিতারায়ে কায়সারিয়া, রূহানী খাযায়েন. ১৫/১১৯-১২০
আরও লিখেছে-
“আমি আমার সকল সাথী নিয়ে দু’হাত তুলে দুআ করছি- হে আল্লাহ, ভারতবর্ষের এই বরকতময় সম্রাজ্ঞীকে আমাদের মাঝে দীর্ঘদিন নিরাপদে রাখো। আর তার প্রতিটি পদক্ষেপে তোমার সাহায্যছায়া দান করো।” -সিতারায়ে কায়সারিয়া, রূহানী খাযায়েন ১৫/১১৪