যারা নিজেদের জান বাজি রেখে স্বদেশ প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে বৃটিশ খেদাও আন্দোলন করেছে তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। তাদের বীরত্ব উপমা হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। অথচ তাদেরকে-ই মির্যা কাদিয়ানী অকৃতজ্ঞ ও নিমকহারাম বলেছে। লিখেছে-
“পাঞ্জাবের মুসলমানেরা খুবই অকৃতজ্ঞ প্রমাণিত হবে, যদি তারা (ইংরেজদের) এই শাসনকে আল্লাহ তাআলার এক মহা নিআমত মনে না করে। বস্তুত তাদের জন্য এটি (খোদার) এক অসীম রহমত।” -বারাহীনে আহমাদিয়া (বাংলা, খ. ৩, পৃ. ১০), রূহানী খাযায়েন ১/১৪০
আরও বলেছে-
“আল্লাহ তাআলা রহমতের বারিধারার ন্যায় এই (ইংরেজ) সরকারকে আমাদের শান্তির জন্য প্রেরণ করেছেন। এরপরেও যদি আমরা এই নিআমতের শুকরিয়া আদায় না করি তাহলে তা হবে মারাত্মক ধরনের নিমকহারামী। এই নিআমতের মহত্ব ও তাৎপর্য তো আমাদের শিরা-উপশিরায় ও মনেপ্রাণে অঙ্কিত হয়ে আছে।” -মাজমুয়ায়ে ইশতেহারাত ২/১৯১ নতুন সংস্করণ, ৩/১২ পুরানত সংস্করণ
বৃটিশ শাসনের জন্য মির্যার শুকরিয়া জ্ঞাপন!
নিজ দীক্ষা, হিতোপদেশ ও নীতি অনুসারে মির্যা কাদিয়ানী সারা জীবন ইংরেজ শাসনের এই ‘নিআমত’-এর ‘শুকরিয়া’ জ্ঞাপন করে গেছে নানাভাবে, নানা ভাষায়। তাদের শুকরিয়া আদায় করতে গিয়েই তাদের পক্ষে ও তাদের হিতাকাক্সক্ষী হয়ে গ্রন্থ রচনা করেছে। তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সেগুলো বিতরণ করেছে। এমনকি তৎকালীন বড় বড় মুসলিম দেশেও বৃটিশ আনুগত্যের প্রতি উৎসাহিত করতে গ্রন্থ পাঠিয়েছে। যাতে করে মুসলমানরা বৃটিশদেরকে নিজেদের বন্ধু ও কল্যাণকামী ভাবতে শেখে। যেমন-
“আর যদিও আমি এই (সরকারের) শুকরিয়া আদায় করার জন্য উর্দূ, আরবী ও ফার্সী ভাষায় অনেক গ্রন্থ রচনা করেছি, যেগুলোতে আমি ভারতবর্ষের মুসলমানদের উপর মাননীয় মহারাণীর অসংখ্য অনুগ্রহের কথা আলোচনা করেছি এবং তা বিভিন্ন মুসলিমদেশে পাঠিয়ে দিয়েছি। আর প্রত্যেক মুসলমানকে (বৃটিশ সরকারের প্রতি) খাঁটি আনুগত্য ও তাদের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে অনুপ্রাণিত করেছি।” -তোহফায়ে কায়সারিয়া, রূহানী খাযায়েন ১২/২৫৫
আরো লিখেছে-
“আমার বয়স এখন প্রায় ষাট বছর। শুরুজীবন থেকে আজ পর্যন্ত বক্তৃতা ও লিখনীর মাধ্যমে আমি নিজেকে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সর্বদা ব্যস্ত রেখেছি যে, কীভাবে মুসলমানদের অন্তরকে বৃটিশ সরকারের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা, তাদের প্রতি কল্যাণকামিতা ও সহমর্মিতার দিকে আকৃষ্ট করতে পারি।” -মাজমুয়ায়ে ইশতেহারাত ২/১৯০ নতুন সংস্করণ, ৩/১১ পুরাতন সংস্করণ