মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে-

“আমার জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে এই ইংরেজ সরকারের সাহায্য ও তাদের সমর্থন কুড়িয়ে। আমি জিহাদের বিরুদ্ধে ও ইংরেজ সরকারের আনুগত্যের বিষয়ে এত বিপুল পরিমাণ গ্রন্থ রচনা করেছি এবং প্রচারপত্র বিতরণ করেছি, যে গ্রন্থ ও প্রচারপত্রগুলো যদি এক স্থানে একত্রিত করা হয় তাহলে তা দ্বারা ৫০ টি আলমারি ভরে যাবে। আর এগুলো আমি সকল আরবদেশে; মিশর, সিরিয়া ও কাবুলে এবং রোমদেশ পর্যন্ত পৌছে দিয়েছি। সর্বদাই আমার চেষ্টা ছিল, যেন মুসলমানরা এই বৃটিশ সরকারের হিতাকাক্সক্ষী হয়ে যায়। -তিরয়াকুল কুলুব, রূহানী খাযায়েন ১৫/১৫৫-১৫৬

বৃটিশদের প্রতি আনুগত্য বায়আতের অন্যতম শর্ত

মির্যা কাদিয়ানীর হাতে কেউ বায়আত হতে চাইলে তার জন্য এই শর্ত জুড়ে দিত যে, বৃটিশদের নিরঙ্কুশ আনুগত্য করতে হবে। মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে-

“আমি একজন শান্তিপরায়ণ মানুষ। (বৃটিশ) সরকারের আনুগত্য ও আল্লাহর বান্দার প্রতি সহানুভূতি-ই হল আমার নীতি। আর এটা এমনই এক নীতি, যা আমার মুরীদদের বায়আতের জন্য পূর্বশর্ত।” -কিতাবুল বারিয়্যাহ, রূহানী খাযায়েন ১৩/১০

বৃটিশ-আনুগত্য মুসলমানদের উপর ফরয!

মির্যা কাদিয়ানীর আকীদামতে সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ বেনীয়াদের আনুগত্য করা দেশের প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। মির্যা কাদিয়ানী লিখেছে-

“আমি এখানে মুসলমানদেরকে নসীহত করছি। তাদের উপর ফরয, তারা যেন আন্তরিকভাবে (বৃটিশ) সরকারের আনুগত্য করে।” -লেকচার লুধিয়ানা (বাংলা, পৃ. ২৯), রূহানী খাযায়েন ২০/২৭২

বৃটিশদের অবাধ্যতা পাপ

মির্যা কাদিয়ানীর দাবি, যেহেতু মুসলমানদের জন্য বৃটিশদের আনুগত্য করা ফরয তাই তাদের অবাধ্যতা গোনাহের কারণ। মুসলমানদের জন্য এই ফরয অলঙ্ঘনীয়। মির্যা লিখেছে-

“মুসলমানদের জন্য ফরয হল, তারা যেন এই বৃটিশ সরকারের একনিষ্ঠ হিতাকাক্সক্ষী হয়ে যায় এবং তাদের জন্য নিজের জীবনোৎসর্গকারী হয়ে যায়। আর এই ফরয ত্যাগ করলে তারা গোনাহগার হবে।” -মাজমুয়ায়ে ইশতেহারাত- ২/৩৫৫ নতুন সংস্করণ, ৩/১৪০ পুরাতন সংস্করণ

ইসলামের দুটি অংশ!

মির্যা কাদিয়ানী বলেছে, ইসলামের অংশ দুটি। আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও বৃটিশদের আনুগত্য। লিখেছে-

“বারবার আমি আমার যে নীতি প্রকাশ করেছি তা হল, ইসলামের দুটি অংশ : এক. আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করা। দুই. যে সরকার (সমাজে) নিরাপত্তা ও শান্তি স্থাপন করেছে (!!) এবং জালেমদের কবল থেকে রক্ষা করে আমাদেরকে নিজেদের আশ্রয়ে নিয়েছে সে সরকারের আনুগত্য করা। আর তারা হল, বৃটিশ সরকার।” -শাহাদাতুল কুরআন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮০