বৃটিশ শাসনামলে উপমহাদেশে ইসলাম ও মুসলমানদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কারো অজানা নয়। তারা জুলুম-অত্যাচারের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা লুণ্ঠন করেছে। মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস করেছে। মুসলমানদের সন্তানদের ধর্মীয় চেতনা ও মূল্যবোধ নষ্ট করার হীনচেষ্টা করেছে। তাদের ছত্রছায়াতেই পুরো ভারতবর্ষজুড়ে খ্রিস্টানমিশনারী ও পাদ্রীদের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ ভূখণ্ডে তাদের আধিপত্য ছিল মুসলমানদের জন্য আসমানী আযাব। ভারতবর্ষের সবাই জানত, বৃটিশরা আল্লাহর দুশমন। আল্লাহর রাসূলের দুশমন। ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমন। তারা কখনও মুসলমানদের বন্ধু ও কল্যাণকামী হতে পারে না। অপরদিকে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বক্তব্য হল, উপমহাদেশে বৃটিশ শাসন মূলত খোদার রহমত, নিআমত ও তাঁর পক্ষ থেকে বরকতস্বরূপ। লক্ষ করুন-
گورنمنٹ انگلشیہ خدا کی نعمتوں سے ایک نعمت ہے۔ یہ ایک عظیم الشان رحمت ہے۔ یہ سلطنت مسلمانوں کے لئے آسمانی برکت کا حکم رکھتی ہے۔
ইংরেজ সরকার খোদার অসংখ্য নিআমতের অন্যতম নিআমত। এটা মহামর্যাদাপূর্ণ এক রহমত। আর এ সরকার মুসলমানদের জন্য আসমানী বরকততুল্য। -শাহাদাতুল কুরআন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮৮-৩৮৯
আরো লিখেছে-
“প্রকৃতপক্ষে বৃটিশ সরকারের অস্তিত্ব খোদার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এক নিআমত ছিল, যা আমরা পেয়েছি দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পরে। তাই এই নিআমতের বারবার আলোচনা করা আমাদের কর্তব্য।” -মাজমুয়ায়ে ইশতেহারাত ২/১৯১ নতুন সংস্করণ, ৩/১২ পুরাতন সংস্করণ
বৃটিশ সরকার আল্লাহর পক্ষ থেকে ঢালস্বরূপ
বৃটিশ সরকারকে সে নিজেদের জন্য ঢাল আখ্যা দিয়েছে। যেমনিভাবে ঢাল মানুষকে আপতিত হামলা থেকে রক্ষা করে তেমনি বৃটিশরাও কাদিয়ানীকে সব ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করবে; এই বিশ্বাস নিয়েই কাদিয়ানী বলেছে-
سو انگریزی سلطنت تمہارے لئے ایک رحمت ہے، تمہارے لئے ایک برکت ہے اور خدا کی طرف سے تمہاری سپر ہے پس تم دل و جان سے اس سپر کی قدر کرو۔
সুতরাং ইংরেজ সরকার তোমাদের জন্য (আল্লাহর) রহমতস্বরূপ। তোমাদের জন্য তা এক বরকত এবং তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তোমাদের সুরক্ষার ঢাল। (যা তোমাদের উপর নিপতিত হামলা থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করবে -সংকলক)। সুতরাং তোমরা মনেপ্রাণে এই ঢালের কদর কর। -মাজমুয়ায়ে ইশতেহারাত ২/৭০৯ নতুন সংস্করণ, ৩/৫৮৪ পুরাতন সংস্করণ
আরো লিখেছে-
خداوند رحیم نے اس سلطنت کو مسلمانوں کے لئے ایک باران رحمت بھیجا ۔
মহান রাব্বুল আলামীন ইংরেজ সরকারকে তোমাদের কল্যাণে রহমতের বারিধারার ন্যায় প্রেরণ করেছেন। -শাহাদাতুল কুরআন, রূহানী খাযায়েন ৬/৩৮৯
মির্যা কাদিয়ানীর আলোচিত বক্তব্যগুলোর কোনো ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। স্পষ্ট ভাষায় সে বৃটিশ সরকারকে আল্লাহর রহমত, নিআমত এবং বরকত আখ্যা দিয়েছে। আর কোনো নিআমত লাভ করার পরে তার শুকরিয়া জানানোও তো কর্তব্য! তাই সে ঘোষণা করল- এই ‘নিআমত’-এর শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক!
বৃটিশ সরকারের শুকরিয়া
যেহেতু মির্যা কাদিয়ানী ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের নিকট বৃটিশ সরকার ছিল খোদা তাআলার এক মহান নিআমত, তাই সে এই নিআমতের শুকরিয়া আদায়ের প্রতি তাগিদ করতে গিয়ে লিখেছে-
“উপমহাদেশের সকল মুসলমানের জন্য অত্যাবশ্যক হল তারা যেন মহান ইংরেজ জাতির শাসনকে খোদার নিআমত মনে করে। আর যেমনিভাবে তারা অন্য নিআমতরাজির শুকরিয়া আদায় করে, তেমনি (বৃটিশ শাসনের) এই নিআমতেরও যেন শুকরিয়া আদায় করে।” -বারাহীনে আহমদিয়া (বাংলা, খ. ৩, পৃ. ১০), রূহানী খাযায়েন ১/১৪০