মির্যা কাদিয়ানীর নবুওয়ত দাবি

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী স্পষ্ট ভাষায় নবুওতের দাবি করেছে। কখনও বলেছে-

“আমার দাবি হল, আমি নবী ও রাসূল।” -মালফুযাত ৫/৪৪৭ নতুন সংস্করণ, ১০/১২৭ পুরাতন সংস্করণ

মির্যা কায়িানীর স্বলিখিত পুস্তিকা দাফেউল বালাতে লিখেছে-

“প্রকৃত সত্য খোদা তিনিই, যিনি কাদিয়ানে তার রাসূল প্রেরণ করেছেন।” -দাফেউল বালা (বাংলা, পৃ. ১২), রূহানী খাযায়েন ১৮/২৩১

অন্যত্র বলেছে-

“আমি ঐ খোদার কছম করে বলছি, যার হাতে আমার জীবন, তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন এবং তিনিই আমার নাম নবী রেখেছেন।” -তাতিম্মা হাকিকাতুল ওহী, রূহানী খাযায়েন ২২/৫০৩

মির্যা কাদিয়ানীর এজাতীয় আরও অনেক বক্তব্য আছে, যেখানে সে নিজেকে নবী আখ্যা দিয়েছে। তার দাবিদাওয়ার তালিকা অনেক লম্বা। শুরুতে মুজাদ্দিদ, মামূর মিনাল্লাহ, মুলহাম, পর্যায়ক্রমে যুগ ইমাম, ইমাম মাহদী ও ঈসা ইবনে মারইয়াম হওয়ার দাবি করেছে। অবশেষে নবুওতের দাবি করেছে। বক্ষমান প্রবন্ধে এটি আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। আমরা এখানে আলোচনা করব, কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজের সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় মির্যা কাদিয়ানী দাবিদাওয়া করার ও স্বতন্ত্র দল গঠনের প্রয়াস পেয়েছে। আর তাদের হীন স্বার্থ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সে আমৃত্যু সাধনা করে গেছে।

[উল্লেখ্য, এই প্রবন্ধে যত উদ্ধৃতি আছে তার সবই মির্যা গোমাল আহমদ কাদিয়ানী ও তার খলিফাদের লিখিত বই-পুস্তক থেকে সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। আর রূহানী খাযায়েন হল, মির্যা কাদিয়ানীর লিখিত পুস্তকসমূহের সমগ্র বা সমষ্টির নাম।]

মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তার গোটা জীবন অতিবাহিত করেছে বৃটিশ তোষামোদ, চাটুকারিতা ও গুণকীর্তন করে। তার স্বলিখিত এমন কোনো গ্রন্থ নেই, যেখানে সে বৃটিশের গুণগান করেনি। সে নিজেই বলেছে-

“সুদীর্ঘ এই সতের বছর ধরে আমি যে পরিমাণ গ্রন্থ রচনা করেছি, তার সবগুলোতেই বৃটিশ সরকারের আনুগত্যের প্রতি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করেছি।” -কিতাবুল বারিয়্যাহ, রূহানী খাযায়েন ১৩/৬-৭

বাস্তবে ঘটেছেও তা-ই। সে তার প্রতিটি গ্রন্থেই মুসলমানদেরকে জালেম বৃটিশের আনুগত্যের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা এখানে তার কয়েকটি মাত্র বক্তব্য তুলে ধরছি। পাঠকমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন যে, আসলেই মির্যা কাদিয়ানী ও তার দল বৃটিশ কর্তৃক সৃষ্ট, তাদের মদদপুষ্ট এবং তাদের উচ্ছিষ্টভোগী।